ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আমি আরেকবার নির্বাচন করব’

‘আমি আরেকবার নির্বাচন করব’
×

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দনি। ছবি: বাফুফে

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:৫৮ | আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:৫৯

ঘরোয়া ফুটবলের কিংবদন্তি থেকে হয়েছেন সংগঠক। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে চার মেয়াদ পার করছেন কাজী সালাউদ্দিন। তাঁর সময়ে গত বছর নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এই বছর পুরুষ এবং নারী ফুটবলের রেজাল্টও ভালো হয়েছে। সমালোচনাও আছে তাকে নিয়ে। নিষিদ্ধ সাবেক সাধারণ সম্পাদককে প্রশয় দেওয়া, বাফুফের নির্বাহী কমিটি ছাড়াই একক সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়াসহ আরও অনেক বিষয়ে বিতর্কের জন্ম দেওয়া। এসব নিয়ে বুধবার সমকালের সঙ্গে ফেডারেশনের নিজ কার্যালয়ে কথা বলেছেন কাজী সালাউদ্দিন। শুনেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয় (প্রথম পর্ব)

সমকাল : খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন কিংবদন্তি। সংগঠক হওয়ার পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলকে কোথায় দেখতে চান?

সালাউদ্দিন : আমার লক্ষ্য, মেয়েরা যেন সাউথ এশিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটা দু-তিন বছর নিয়ন্ত্রণ করার পরের টার্গেট হলো আসিয়ান। এটাই আমাদের বড় টার্গেট। ছেলেদের ক্ষেত্রেও টার্গেট অনেকটা এ রকম। ভবিষ্যতে যে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হবে, আর যদি বিদেশি দল না আসে, তাহলে ফাইনাল অবশ্যই বাংলাদেশ-ভারতই হবে এবং যে কেউই জিততে পারে। এখন আমরা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে খেলি এবং লড়াই করি। আফগানিস্তান, লেবাননের সঙ্গে আমরা লড়াই করি।

সমকাল : ফুটবলে ইতিবাচক খবরের মধ্যে বড় নেতিবাচক ছিল দুর্নীতির কারণে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়া।

সালাউদ্দিন : এটা তো আমাদের ফাইন্যান্স কমিটির বিষয়। এই প্রশ্নের উত্তরটা ভালোভাবে দিতে পারবে ফাইন্যান্স কমিটি। তবে আমরা সব কিছুতেই অতিরিক্ত করে ফেলেছিলাম। আপনি যদি পুরো বইটা পড়েন, ওখানে লেখা আছে বাফুফে কোনো মালপত্র খরিদ করেনি, যেটা মার্কেটের থেকে বেশি দাম। বাফুফের কোনো ফাইন্যান্সিয়াল ক্ষতি হয়নি এবং লিখেছে সবকিছুই তারা সঠিকভাবে পেয়েছে। কিন্তু সিস্টেমটাই ভুল হয়েছে। সিস্টেমের সমস্যা হলো, অফিসের নির্বাহীরা দায়সারা কাজ করেছেন। সে জন্য তারা সাসপেন্ড হয়েছেন এবং প্রতিটি বিভাগই পরিবর্তন হয়েছে।

সমকাল : তার পরও অনেকে বলছেন– আপনার সায় পেয়েই সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিয়মগুলো করেছেন।

সালাউদ্দিন : এসব মিডিয়ার নাকি অন্যকিছু হচ্ছে, সেটা আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। 

সমকাল : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে অনেকেরই ধারণা আপনি সরে গেলে ফুটবলের মঙ্গল হবে?

সালাউদ্দিন : এই প্রশ্ন আপনাদের কাছে। আপনারাই মাপবেন। আমার সবচেয়ে সুবিধা আছে, আমি ওয়েবসাইট দেখি না। আমার টেলিভিশনও নাই। আমি আমার কাজ করতেই থাকি। আমি তো একসময় এখানে থাকব না। দেখা যাক। আমি যখন ছিলাম না, তখন কী ছিল? একটু চিন্তা করে দেখেন। খেলাই তো হয়নি। ওইটা তো বলেন না। খেলার জন্য এখানে প্লেয়াররা স্ট্রাইক করত। আমার কথা বিশ্বাস না হলে দু-তিনজনের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন। আপনি তো রাস্তার ১০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, প্লেয়ারদের তো নেননি। সেদিন জিকো (গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো) এসে বলে গেছে, প্রেসিডেন্ট সাহেব আপনি থাকাতে আমরা গাড়ি চালাই। কারণ, লিগ ধারাবাহিক হয় এবং প্রতি বছরই ফুটবলাররা পয়সা পায়। যাই হচ্ছে, সেটা আসলে আপনাদের (মিডিয়ার) তৈরি করা। আমি যদি এতই খারাপ হতাম, তাহলে সাউথ এশিয়ায় টানা চারবার সভাপতি হতে পারতাম না।

সমকাল : টানা চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। সামনে (সম্ভবত ২০২৪ সালের অক্টোবর) আরেকটি নির্বাচন। আপনি কি আবারও নির্বাচনে লড়বেন?

সালাউদ্দিন : হ্যাঁ, আমি আরেকবার নির্বাচন করব। ফুটবলে আরও কিছু কাজ করার আছে আমার। আমরা সাউথ এশিয়ায় আধিপত্য করতে চাই। এর সঙ্গে মধ্য এশিয়াতে নিজেদের শক্তির জানান দিতে চাই। এটা করার জন্য আমি আরেকটা টার্ম নির্বাচন করব। আর এটাই হবে আমার শেষ নির্বাচন।

সমকাল : এর আগে ভিশন-২০২২ এর কথা বলেছিলেন। আগামীতে নির্বাচিত হলে নতুন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন কিনা?

সালাউদ্দিন : তখন আমি যেটা বলেছিলাম, সেটা আপনারা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, আমাদের একটা ভিশন থাকতে হবে। আমরা চেষ্টা করব, যে কোনোভাবে ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা যায় কিনা। সেটা যে অসম্ভব, সেই কথাটিও বলেছিলাম। আসলে আপনাকে তো একটা ভিশন নিয়ে নামতে হবে। আমি ক্লাস টুতে পড়ি, ম্যাট্রিক দেব, ইন্টার দেব, ফাইনাল দেব, মাস্টার্স করব। আমার যদি কোনো ভিশনই না থাকে, তাহলে আমি কীভাবে এগুলো করব। এই কথাটিই বলেছিলাম। কিন্তু সেটাকে আপনারা বিকৃত করে বহুরকমভাবে নিয়ে গেছেন। আপনাদের কলম আছে, বন্দুক আছে তাই পারেন।

সমকাল : আপনি বলেছেন ছেলেদের ফুটবলে ক্লাবগুলোর অনেক অবদান। অনেক সময় ক্লাবগুলোর অভিযোগ থাকে, তারা অংশগ্রহণ মানি পায় না।

সালাউদ্দিন : ক্লাবের অভিযোগ ঠিক। আমার তো সরকারের কোনো ফান্ড নাই যে, আমি তাকে দেব। স্পন্সর যদি টাকা দেয়, সেটা আমি সবাইকে দিই। ফিফার টাকা থেকে আমি ১০ ডলার কাউকে দিতে পারব না। আমরা সিস্টেমে যে সমস্যায় পড়েছিলাম, সেটা হলো ফিফার অর্থ আমরা জেলা ও ক্লাবকে দিয়েছিলাম।

সমকাল : কিন্তু জেলা পর্যায়ে লিগ তো ওইভাবে হয় না।

সালাউদ্দিন : জেলা পর্যায়ে আমার লিগ তো ফিফা করবে না। আপনি তো প্রেসিডেন্ট (জেলার সভাপতি) সেখানকার, জেলা লিগ করতে ৪-৫ লাখ টাকা লাগে, আপনি করেন। ফেডারেশন না পারলে ব্যক্তিগতভাবে আমি দুই থেকে তিনটি জেলাকে সাপোর্ট দিতে পারি; কিন্তু আমি তো ৬০-৭০ জেলাকে দিতে পারব না। আপনি জেলার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, আপনি যদি চার-পাঁচ লাখ টাকা উঠিয়ে লিগ করতে না পারেন, তাহলে টাকা দিলেও করতে পারবেন না।

সমকাল : তাহলে আপনারা জেলাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যাচ্ছেন না কেন?

সালাউদ্দিন : আমার পাওয়ার নেই অ্যাকশন নেওয়ার। আপনারাই তো তাদের বিরুদ্ধে লিখতে পারেন। আমি যদি লিগ চালু না রাখতে পারতাম, আপনারা আমাকে কী করতেন? আমি যে অর্থের জন্য মেয়েদের টিমকে বিদেশে পাঠাতে পারিনি, আমাকে তো ভোরবেলা থেকে সমালোচনা করেছিলেন। তাহলে ওদেরটা কেন ধরছেন না। কারণ, ওরা তো সালাউদ্দিন না। 

আরও পড়ুন

×