এবার রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ছবি: এবিসি নিউজ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ২২:১৫ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ২২:১৫
পূর্ব ইউক্রেনে সেনা পাঠানো এবং দেশটির দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন ঘোষণাকে ‘ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের শুরু’ আখ্যা দিয়ে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ ছাড়া ইউরোপের ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা পাঠাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জো বাইডেন বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার বৃহৎ ব্যাংক, রুশ সরকারের ঋণ, রাশিয়ার উচ্চবিত্ত এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন থাকবে। বুধবার থেকে এটা কার্যকর হবে। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিলে নিষেধাজ্ঞাও আরও বাড়বে বলে তিনি হুমকি দেন। খবর এবিসি নিউজ।
হোয়াইট হাউসে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জো বাইডেন বলেন, এটা ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের শুরু। যেটা তিনি (পুতিন) তার দেশের সংসদে অনুমতি নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, যদি রাশিয়া এই আক্রমণ নিয়ে আরও সামনে এগোয়, তবে আমরাও আরও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সামনে যেতে প্রস্তুত আছি। আমাদের কাউকে বোকা বানানো উচিত না। আমরা কেউ বোকা হবো না। কোনো যৌক্তিকতা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু নেই। সামনের দিনে ইউক্রেনে আরও রুশ হামলার বিষয়টি তীব্র হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এটা কঠোর প্রতিক্রিয়া দাবি’ করে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, রাশিয়ার দুটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘পূর্ণ মাত্রার নিষেধাজ্ঞা’ এবং রুশ সরকারের ঋণে বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো আমরা রুশ সরকারকে পশ্চিমা অর্থায়ন থেকে বাদ দিয়েছি। তারা আর পশ্চিমাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে না এবং আমাদের বাজার বা ইউরোপের বাজারে তারা আর নতুন ঋণের ব্যবসা করতে পারে না।
এর আগে মঙ্গলবার রাশিয়ার পাঁচটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে নিষেধাজ্ঞা জারির ওই ঘোষণা দেন।
ব্যাংক পাঁচটি হলো- রসিয়া, আইএস ব্যাংক, জেনারেল ব্যাংক, প্রোমসভায়াজ ও ব্ল্যাক সি ব্যাংক। এগুলো রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক।
অন্যদিকে রুশ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় নর্ড স্ট্রিম দুই গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প চালুর অনুমোদন দেবে না বলে জানিয়েছে জার্মানি। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে এই পাইপলাইনের কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু পাইপলাইনটি এখনও চালু হয়নি।
উল্লেখ্য, সোমবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে ‘শান্তি রক্ষার জন্য’ সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে তিনি ইউক্রেন থেকে আলাদা হতে চাওয়া ওই অঞ্চল দুটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ওইদিন দিনভর জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন রুশ প্রেসিডেন্ট।