ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উড্ডয়নের অপেক্ষায় ‘একুশে-১’

দেশের প্রথম রকেট

উড্ডয়নের অপেক্ষায়  ‘একুশে-১’
×

ময়মনসিংহে শনিবার রকেট একুশের আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন অতিথিরা -সমকাল

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | ০১:২২

প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে ‘একুশে-১’ নামে প্রটোটাইপ রকেট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রকেটটিতে থাকবে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন সার্কিট ও সেন্সর। এটিকে পৃথিবীর উচ্চ বায়ুমণ্ডলে নিয়ে আবহাওয়ার বিভিন্ন বার্তা সংগ্রহ করে আবার ফিরিয়ে আনা হবে। উদ্ভাবকরা জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে উৎক্ষেপণ করা হবে রকেট ‘একুশে-১’। 

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাহিয়ান আল রহমান অলি ও তাঁর দল ‘ধূমকেতু এক্স’ সরকারি সহায়তায় এই প্রটোটাইপ রকেটটি তৈরি করেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর টাউনহল চত্বরে রকেটটি উন্মোচনের জন্য এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পর্দা টেনে রকেটটি উন্মোচন করেন ময়মনসিংহ সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু। এ সময় টিম ধূমকেতু এক্সের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সিইও ইউসুফ আলী, নাসা অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের উপদেষ্টা আরিফুল হাসান অপু, মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানো উপকরণ ও শক্তি প্রযুক্তি বিভাগের গবেষকদের প্রধান অধ্যাপক সাইদুর রহমান, এটুআই কর্মকর্তা জ্যোতির্ময় সিনহা, মোহাম্মদ শাহ জালাল, বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন সভাপতি মোখলেছুর রহমান, ধূমকেতু এক্সের উপদেষ্টা এম এ ওয়ারেস বাবু। উন্মোচনের পর রকেটটি দেখতে ভিড় করেন অনেক শিক্ষার্থী। টিম ধূমকেতু এক্স জানিয়েছে, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের এটুআইর সহযোগিতা ও অর্থায়নে তারা রকেটটি তৈরি করেছে। তবে একুশে উৎক্ষেপণের আগে এটুআইর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ ধূমকেতু এক্স আরও চারটি পরীক্ষামূলক রকেট উৎক্ষেপণ করবে। এগুলো হলো ধূমকেতু এক্স সিরিজের ১, ২, ৩ এবং ৪।

জানা গেছে, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের এটুআই প্রজেক্ট আয়োজিত রকেটটি ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে প্রজেক্ট ক্যাটাগরিতে চলতি বছর চ্যাম্পিয়ন হয় টিম ধূমকেতু এক্স। ফলে এই টিমকে রকেট তৈরিতে ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প দেয় এটুআই। যার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে দেশের প্রথম রকেট একুশে। 

ধূমকেতু এক্সের প্রধান নাহিয়ান আল রহমান অলি জানান, ২০১২ সালের দিকে তিনি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস বিভাগে ভতির্র পর থেকে তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে রকেট তৈরির চিন্তা। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি একাই কাজ করতেন। পরে একটি দল তৈরির প্রয়োজন অনুভব করেন। ২০১৮ সালে তাঁর সঙ্গে সমমনা কিছু তরুণ যুক্ত হয়। নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ২০২২ সালে টানা চার বছরের পরিশ্রমে তৈরি হয় তাদের কাঙ্ক্ষিত রকেট। ‘একুশে-১’ তৈরিতে ২৪ জন কাজ করেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন। 

নাহিয়ান বলেন, প্রথমে তরল জ্বালানির রকেট ইঞ্জিন ডিজাইন করেছিলেন তারা। কিন্তু তরল জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় পরে বিকল্প হিসেবে সলিড ফুয়েলের ইঞ্জিন তৈরি করেন। তাদের তৈরি পরীক্ষামূলক রকেট ‘ধূমকেতু এক্স পুঁটিমাছ’ চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সফল উড্ডয়ন হয়। যদিও এটি উড্ডয়নে সরকারি অনুমতি ছিল না। পরে রকেট উড্ডয়নের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয় টিমের পক্ষ থেকে। রকেট একুশে তাদের পঞ্চম অর্জন। রকেট একুশের ওজন ৪৫ কেজি, লম্বায় ১২ ফুট, ব্যাস সাড়ে ৬ ইঞ্চি। এটিকে সাউন্ডিং রকেটও বলা হয়। সাউন্ডিং রকেট হলো, এক বা দুই পর্যায়ের কঠিন প্রপেলান্ট রকেট, যা উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় অঞ্চল অনুসন্ধান এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়। একুশের মাধ্যমে মূলত আবহাওয়ার বার্তা পাওয়া যাবে। এটি বায়ুমণ্ডলের ৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে উড্ডয়ন করে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। 

নাহিয়ান জানান, বাংলাদেশে আগে রকেট উৎক্ষেপণের নীতিমালা না থাকায় রকেট তৈরির পর জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। এখন সরকারিভাবে রকেট উৎক্ষেপণের অনুমতি মিলেছে। একুশের পরের ধাপ ‘বায়ান্ন’ ও তারপরে ‘একাত্তর’ রকেট তৈরি করবেন তারা। রকেট একুশে তৈরির কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। রকেটটি ইনস্ট্যান্ট ডাটা কমিউনিকেশনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্যারাসুটের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। ওই সময় সার্ভারে সংগ্রহ করে রাখা হবে আবহাওয়ার তথ্য। 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা রকেট তৈরি করে দেশের জন্য যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে তা আগামী প্রজন্মকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। উদ্ভাবনী মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা।’

 

আরও পড়ুন

×