সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার গোয়াবাড়িতে মুজিববর্ষে উপহারের ঘরে বসবাসকারী এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও তার নবজাতক সন্তানকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে এ অভিযোগে ফখরুল ইসলাম নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাটিচাপা দেওয়া নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত ফখরুল নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ সমকালকে জানিয়েছেন, ফখরুল মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় অনৈতিক সম্পর্কের বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নবজাতক হত্যার অভিযোগে মামলা হবে।

শনিবার সেই মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হবে উল্লেখ করে ওসি জানান, ফখরুলের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত যারাই হোক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে পুলিশ।

পুুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গোয়াবাড়ি গ্রামে গত বছর মুজিববর্ষের উপহারের ঘর পান গ্রামের এক মেয়ে। ৩৫ বছর বয়সী ওই নারীর স্বামী মারা গেছেন ১০ বছর আগে। আট বছর বয়সী এক ছেলেকে নিয়ে প্রথমে বাবার আশ্রয়ে এবং সর্বশেষ সরকারি ঘরে বসাবাস শুরু করেন। একই গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই নারী। শুক্রবার ভোরে তিনি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ফখরুল নবজাতক শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করে স্থানীয় সইদুরের বাড়ির পাশে মাটিচাপা দেন। সাইদুরের মা বিষয়টি দেখে আশপাশের লোকজনকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেন।