নাটোরের সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক পক্ষের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে আরেক পক্ষ। গত সোমবার সন্ধ্যায় পাকুরিয়া বাজারে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে প্রায় ২০০ মানুষ দেশি অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়। এ সময় দুটি বাড়ি ও আটটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, হামলায় নেতৃত্ব দেন সাবেক ইউপি সদস্য আলিফ হোসেন ও ইটালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। স্থানীয় ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান আরিফের নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তা লাল চক্রবর্তী আজ মঙ্গলবার ইউপি চেয়ারম্যান আরিফসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে প্রায় আড়াইশ জনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিসি, এসপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় এমপি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফা জেসমিন কণিকার একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। সেখানে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আরিফের নেতৃত্বে এ হামলা হয় বলেও জানান।

তবে স্থানীয়রা জানান, হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বলতে শুধু মুক্তা লালের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সেটিও আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে। আর কণিকার সঙ্গে আরিফের পূর্ববিরোধ রয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ বিষয়ে বলেন, এটি তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি যা পোস্ট করেছেন তা নিজের কথা। এ বিষয়ে তিনি আর কিছু বলবেন না।

এলাকাবাসী জানান, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে পাকুরিয়া আওয়ামী লীগে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এর এক পক্ষে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, আরেক পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য আলিফ হোসেন। এর জেরেই সোমবার পাকুরিয়া বাজারে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরের কার্যালয়, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তা লালের বাড়ি ও মার্কেটে হামলা চালায় আলিফের পক্ষ।

আলিফ অবশ্য হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ হামলা চালিয়েছে। তিনি এর সঙ্গে জড়িত নন। ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

নাটোরের এসপি সাইফুর রহমান বলেন, সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি সদস্যের পূর্ববিরোধের জেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে।