রাজপথে দলের নেতাকর্মীদের এখন সাহস দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আন্দোলনের জোয়ার শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীদের সাহস দেখতে পাচ্ছি। সমর্থকরাও রাস্তায় নেমে আসছেন। বাংলাদেশে এবং বিদেশে একটি কথা উঠে আসছে, শেখ হাসিনা আর কতদিন থাকবেন। আওয়ামী লীগ এই বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ। তাদের নেত্রী, সাধারণ সম্পাদকের কথায় বুঝতে পারছি, তাদের মধ্যে একটা বড় ধরনের হতাশা কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যে তর্জন-গর্জন শুরু করেছে। কিন্তু যত গর্জে, তত বর্ষে না। যখন গর্জন বাড়তে থাকবে, দুর্বলতা ততবেশি বাড়ছে। সময়ের অপেক্ষা, শেখ হাসিনার লোকজনও আন্দোলনে চলে আসবে।’

২২ আগষ্ট থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বিএনপির ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির এক প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলেন, ‘আমাদের তর্জন-গর্জনের দরকার হবে না। আমাদের গর্জন হবে কাজের মধ্য দিয়ে। বেশি কথা বললে আন্দোলন এগিয়ে যাবে না। আমাদের আন্দোলন পরিকল্পিত। সুতরাং বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে সরানো যাবে না। পরিকল্পিত আন্দোলনে সরকারের পতন হবে। আমাদের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সুশৃঙ্খল এবং জনসম্পৃক্ততা। এই সরকারকে পতন ঘটাতে হলে, জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ আন্দোলনে আমাদের সুবিধা হলো, দেশের জনগণ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলে গেছে। তারা টাকা দিয়ে, মাস্তান দিয়ে যে কাজটি করতে পারবে না সেটি আমরা সাধারণ জনগণকে দিয়ে করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুই হাজার লোক যদি প্রাণও দেই, তাহলেও শেখ হাসিনার পতন সম্ভব না। এই জন্য লাখ লাখ লোক নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। মানুষ যখন রাস্তায় নেমে যাবে, তখন শেখ হাসিনার আশপাশের লোকজনও এদিকে ধাবিত হবে।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরে এক ঘণ্টার ডাকে পুরো নগর অচল করার মতো নেতা আছে। কোনো জেলায় যদি আন্দোলনের নেতা প্রয়োজন হয়, তাহলে চট্টগ্রাম নগর থেকে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না, আঙুল বাঁকা করতে হবে। এখন নেতাকেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে নেতাকর্মীদের নিয়ে। বিএনপি কোনো বাহিনীর দল নয়, বিএনপি জনগণের দল। নেতারা এবার ঈমানী দায়িত্ব পালন করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় মনিটরিং টিমের প্রধান মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, ড. মামুন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রিয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক ম্যা মা চিং, মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, ভিপি হারুনুর রশিদ, সহ গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সহআইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সহধর্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মনি স্বপন দেওয়ান, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, খাগড়াছডড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নোয়াখালী বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, লক্ষীপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দীন সাবু, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার দীপু প্রমুখ।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলায় বিএনপির ধারাবাহিক কর্মসূচি সফলে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।