আমদানির খবরে এক দিনের ব্যবধানেই ফরিদপুরে মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম কমে গেছে প্রায় ৪০০ টাকা। জেলার বড় বাজারগুলোতে গত সোমবার পেঁয়াজ বিক্রি হয় মণপ্রতি ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায়। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার সেই একই মানের পেঁয়াজের দাম কমে মণপ্রতি বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ১২০০ টাকায়। আচমকা এ দরপতনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ই।

ফরিদপুরের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের আড়ত কানাইপুর, সালথা, নগরকান্দা ও বোয়ালমারীতে এমন দরপতন দেখা গেছে।

মঙ্গলবার ফরিদপুরের কানাইপুর ও নালের মোড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য গত সোমবার পর্যন্ত মণপ্রতি ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছেন কৃষকের কাছ থেকে। কিন্তু আমদানির খবরে প্রতি মণে ৪০০ টাকার মতো লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে।

নালের মোড় বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মহাসিন রোজ বলেন, সোমবার পর্যন্ত মণপ্রতি সর্বোচ্চ ১৭০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার দর কমে দাঁড়িয়েছে ১২০০ টাকায়। তাঁর মতো অনেক ব্যবসায়ীই হঠাৎ দরপতনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পচনশীল এই পণ্য নিয়ে বাজারে আসা কয়েকজন কৃষক বলেছেন, ৩০ থেকে ৩২ টাকা ব্যয় হয়েছে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে। এখন উৎপাদন খরচ উঠছে না। ১২০০ টাকায় বিক্রি করলে চাষিদের বড় ক্ষতি হচ্ছে।

কানাইপুর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পেঁয়াজ আমদানি আরও কিছুদিন পরে করলে ভালো হতো, তাহলে প্রান্তিক চাষিরা তাঁদের পেঁয়াজ বাজারে ছাড়তেন। এখন ব্যবসায়ী ও কৃষক উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়লেন।

পেঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম জেলা ফরিদপুরে এ বছর চাষিরা ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৬ লাখ টন পেঁয়াজ চাষ করেছেন। যা দেশের মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।