খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার মাতমডাঙ্গা এলাকার আলোচিত সরদার মুঞ্জির আহমেদ মাস্টার হত্যা মামলায় ২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন।

মুঞ্জির মাস্টার মাতমডাঙ্গা এলাকার শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় এজিএম যুব সংঘের সদস্য ছিলেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আনোয়ার হোসেন ও আশরাফ আলী। রায় ঘোষণার পর তাদেরকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় ওই দুইজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১২ জন আসামির মধ্যে ৩ জন বিচার চলাকালে ক্রসফায়ারে নিহত হয়। ১ জনকে রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় অব্যাহতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাকি ছয় জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কে এম ইকবাল হোসেন জানান,চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা মুঞ্জির মাস্টারের কাছে চাঁদা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর ক্ষিপ্ত হয় ওই দলের সদস্যরা। তারা তাকে হত্যা করারও হুমকি দেয়।

তিনি আরও জানান, ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মুঞ্জির মাস্টার মাতমডাঙ্গা যুব সংঘের ভেতরে ছিলেন। রাত সোয়া ৯ টার দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী যুব সংঘের ভেতরে প্রবেশ করে বোমা হামলা চালায়। এতে মুনজির মাস্টার গুরুতর আহত হন। রাতে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাত ১ টার দিকে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেনজীর আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে খানজাহান আলী থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা করেন। এ দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন খানজাহান আলী থানার এস আই মো. ফারুকুল ইসলাম। তিনি একই বছরের ১২ ডিসেম্বর বিস্ফোরক ও ২০০৬ সালের ৩০ জুন হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।