বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় সিলেট রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সিলেটের সঙ্গে সব উপজেলার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ট্রেন চলবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে।

নুরুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে রেলস্টেশনের মূল প্লাটফর্মে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। স্টেশনে কোনো ট্রেন প্রবেশ করতে পারছে না। তাই রেলস্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল করবে।

সিলেটের পরিবহন নেতা আবদুল গফুর সমকালকে বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে সিলেটের কদমতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে পানি জমে গেছে। সিলেটগামী বিভিন্ন সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কিছু যানবাহন চলছে এখন। কিন্তু যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাবে। 

তিনি জানান, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ছাড়া সিলেটের অন্যসব উপজেলার সঙ্গে বাস চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় সিলেট-সুনামগঞ্জের সবগুলো বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দুই জেলার মানুষ। শনিবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিভিন্ন উপকেন্দ্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরমধ্যে সিলেটের ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। 

ভারতের মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দেশের মধ্যাঞ্চলের আরও ১৭টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।