কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যতক্ষণ ভোটার থাকবে ততক্ষণ ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার শাহেদুন্নবী চৌধুরী। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা জানান। 

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ধীরগতির বিষয়টা হচ্ছে, এখানে একজন ভোটার কিন্তু তিনটা ব্যালটে ভোট দেন। তারা ভোট দেয়ার আগে চিন্তা করতে সময় নেন। তাছাড়া এবারই প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিচ্ছেন। এসব কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। 

সকল শঙ্কা কাটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কুসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রথম চার ঘণ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কুসিকের এই রিটার্নিং অফিসার। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। 

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহেদুন্নবী চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! সুন্দর পরিবেশে ভোট চলছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট হচ্ছে বলে সব প্রিসাইডিং অফিসার ও এজেন্টরা জানিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত (বেলা ১২টা) কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকালে বৃষ্টি হয়েছিল। এখন আপাতত বৃষ্টির শঙ্কা নেই। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ভোটাররা কেন্দ্রে আসছেন। 

এ সময় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মনজুর আলম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদকে সকাল থেকে মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করতে দেখা গেছে। 

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুমিল্লা হাই স্কুল কেন্দ্রে সাংবাদিকদের জানান, ভোটের পরিবেশ আমরা যা চেয়েছিলাম, তাই আছে। আশা করি শেষ সময়ও তা বহাল থাকবে। কেন্দ্রে কেউ সহিংসতার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কেন্দ্র থেকে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে এমন কোনো ঘটনার খবর আসেনি বলেও তারা জানান। 

এর আগে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে ৬৪০টি বুথে ভোট হচ্ছে ইভিএমে। এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুইজন। 

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের এটি তৃতীয় নির্বাচন। এবারই কুমিল্লায় প্রথম ইভিএমে ভোট হচ্ছে। এর আগে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সিটির দ্বিতীয় নির্বাচন হয় ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে আলোচনায় বেশি আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত (নৌকা প্রতীক) এবং গত দুইবারের মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর (টেবিল ঘড়ি প্রতীক) নাম। এই দুজনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্য তিনজন হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাশেদুল ইসলাম (হাত পাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন (ঘোড়া) ও কামরুল আহসান (হরিণ)। এরমধ্যে মনিরুল হক বিএনপির এবং নিজামউদ্দিন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিলেন। বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের দুজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী লড়াই করছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে প্রশাসন। নির্বাচনে ১০৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৭৫টি তল্লাশিচৌকি, ১০৫টি মোবাইল টিম, ১২ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ৩০টি টিম, ৫২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের ৩ হাজার ৬০৮ জন সদস্য মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচনে ইভিএমে কোনো ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য রয়েছেন ৩৫ জন। ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের সারিতে একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। প্রতি বুথে (কক্ষে) একটি করে মোট ৬৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ভোট কক্ষের ভেতরে কোনো এজেন্ট কোনো ভোটারকে তার পছন্দের প্রতীকে ভোটদানে প্রভাবিত করলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের আরও খবর 

ইভিএমে ধীরগতি ও আঙুলের ছাপ না মেলার অভিযোগ, যা বললেন রিটার্নিং অফিসার