নাটোরে ২০২০ সালে করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় সিংড়া পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে সিংড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মইনুল হকের মা রাহেলা বেগমের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

মিজানুর রহমান সিংড়া পৌরসভার উত্তর দমদমা সর্দারপাড়ার মুক্তাদুর রহমানের ছেলে ও সিংড়া পৌরসভার ২নং প্যানেল মেয়র।

সিংড়া থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা মইনুল হকের মা রাহেলা বেগম বাদী হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সিংড়া আমলী আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা আছে বলে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ আসামির বিরুদ্ধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলে সিংড়া থানার পুলিশ কাউন্সিলর মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে মিজানুর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম দাবি করে বলেন, ২০২০ সালে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা মইনুল হক ও এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় লোকজন। তখন কাউন্সিলর হিসেবে মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিক শালিসী বৈঠক করে তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। পরে ওই চিকিৎসক বিয়ে অস্বীকার করলে ওই নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের মামলা করেন। এই মামলাটিও পিবিআই তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা আছে বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এই ঘটনার আক্রোশে মিজানুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তার স্বামী সিংড়া পৌর আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্যই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা মইনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের স্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয়। তবে তার বিরুদ্ধে একজন নারী মামলা করেছেন এটা সত্যবলে তিনি জানান।এর বেশী কিছু বলতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন।

সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, আদালতের পরোয়ানা বলে কাউন্সিলর মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে।