চরফ্যাশনের জাহানপুর ইউনিয়নে এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, যুবকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।

মারধরের পর লজ্জ্বা ও অপমানে প্রতিবন্ধী যুবক আবদুর রহিম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাহানপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার নিরব ফকির প্রতিবন্ধী যুবক আবদুর রহিমকে মিথ্যা অভিযোগে মারধর করে ৫০ হাজার দাবি করেছেন, যার মধ্যে ২০ হাজার টাকা তিনি ঘটনাস্থলেই আদায় করেন।

গত শনিবার সকালে জাহানপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আবদুর রব হাওলাদরের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে।  

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহানপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বড়ভাই আবদুর রব হাওলাদার এবং ছোট ভাই শহিজল হাওলাদারের মধ্যে বাড়ির ৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে শহিজল একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে বড় ভাই আবদুর রবকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করেছেন। 

তার ধারাবাহিকতায় নিজ আত্মীয়ের শিশু সন্তানকে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ রটান আবদুর রবের প্রতিবন্ধী ছেলে আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পেয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক ডাকেন ইউপি সদস্য নিরব ফকির। তিনি প্রতিবন্ধী আবদুর রহিমকে তার স্বজনদের সামনে বেধকড় মারধর করেন। পাশাপাশি ওই শিশুর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এই ঘটনার পর রাগে-ক্ষোভে প্রতিবন্ধী যুবক আবদুর রহিম নিজ বাড়িতে বিষপানে ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করে।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বজনরা আবদুর রহিমকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে তাকে বরিশাল শেবাচিমে রেফার করেন চিকিৎসকরা। 

শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান পাটওয়ারী সমকালকে বলেন, শনিবার ওই শিশুকে নিয়ে তার স্বজনরা থানায় আসেন। মহিলা পুলিশ দিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগটি মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলেও পুলিশ অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছে যে, জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন একটি অভিযোগ সাজানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী যুবক বা তার পরিবার মামলা করলে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবে। পরে আইনি ব্যবস্থা নেবে।’

অভিযুক্ত মেম্বার নিরব ফকির আবদুর রহিমকে মারধরের কথা অস্বীকার করেন। 

তিনি বলেন, ‘শিশুর পরিবারের অভিযোগ পেয়েই তিনি সালিশি বৈঠক ডেকেছিলেন।’ 

২০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে শিশুর পরিবারকে দিয়েছি।’

জাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘শিশুকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে তার মা আমাকে জানিয়েছিলেন। আমি তাদের থানায় যেতে বলেছিলাম। এমন অভিযোগ সত্য-মিথ্যা যাই হোক না কেন সেখানে মেম্বারের কোনো কিছু করার নেই।মেম্বার বাড়াবাড়ি করলে অন্যায় করেছেন।’