উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

শহরের ছয়টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে শহরে। এই ছয়টি পয়েন্ট হল নবীনগর, ধোপাখালি স্লুইসগেট, কাজীর পয়েন্ট, উকিলপাড়া, উত্তর আরপিননগর ও তেঘরিয়া। 

নবীনগর, ধারারগাও, জেলরোড, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া ও বড়পাড়া এলাকার সড়কে এবং কিছু ঘরবাড়িতে ও পানি ওঠেছে। 

সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের ইব্রাহিমপুর, সদরগড়, জগন্নাথপুর, মঈনপুরসহ নদীরপাড়ের গ্রামগুলোর নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ওঠেছে। 

এছাড়া জেলার বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারা, তাহিরপুর ও ছাতকের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে পানি ওঠায় ছাতকের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইরফানুল ইসলাম জানালেন, ভারতের মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে এবং সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ হয়েছে। চেরাপুঞ্জি-মেঘালয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৯ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১০২ মিলিমিটার এবং ছাতকে ১৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এ কারণে সুনামগঞ্জের সকল নদনদীতে পানি বেড়েছে। 

তিনি জানান, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ৮ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং ছাতকে ৯ দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসীমার ১ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। 

তিনি জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এসব এলাকায় ভারী বর্ষণ হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ছাতকের তিনটি স্কুলকে এবং দোয়ারাবাজারের একটি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। ছাতক, দোয়ারা, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরে পাঁচ টন করে ২০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। 

ছাতক, দোয়ারা উপজেলায় ১ লাখ টাকা ও বিশ্বম্ভরপুরে ৫০ হাজার নগদ টাকা দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। কোথাও কেউ পানিবন্দি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।