পঞ্চম ধাপের তিন হাজার ৭০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন বিভিন্ন ইসলামী দলের প্রায় অর্ধশত নেতা। দলীয় প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের আটজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের তিনজন, ইসলামী ঐক্যজোটের দু'জন এবং খেলাফত মজলিসের একজন করে প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হতে পারেননি। সমকালের প্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছেন।

নিবন্ধন হারানো জামায়াত নেতারা এবারের ইউনিয়ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে অংশ নিচ্ছেন। যদিও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষে প্রার্থী হয়েছিলেন দলটির নেতারা। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো ভোটে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল জামায়াত।

২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচন থেকে দূরে থাকলেও পরের বছর পৌরসভা নির্বাচনে বিক্ষিপ্তভাবে প্রার্থী হন জামায়াত নেতারা।

এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ সমকালকে বলেছেন, ১৩ বছর ধরে জামায়াতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সরকার। ১১ বছর ধরে কোথাও দলীয় কার্যালয় খুলতে দিচ্ছে না। নূ্যনতম গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করতে দিচ্ছে না। এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ফলে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

তবে বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের পদধারী নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে স্থানীয় নানা ইস্যু থাকে। এ কারণে কোথাও কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তে ভোটে অংশ নিচ্ছেন হয়তো।

সমকালের প্রতিনিধিদের তথ্যানুযায়ী, জামায়াত নেতারা যত সংখ্যক চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন, তার বেশিরভাগ রংপুর ও খুলনা বিভাগে। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৭০৭টি ইউনিয়নে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতারা। আগের তিন ধাপে গাইবান্ধায় ৬৪টি ইউনিয়নের ছয়টিতে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। লালমনিরহাটে একটি, বগুড়ায় তিনটি, নওগাঁওয়ে দুটি, মেহেরপুরে একটি, সুনামগঞ্জে একটি, সাতক্ষীরায় ছয়টি, সিলেটে আটটি, কুমিল্লা ও চাঁদপুরে একটি করে ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা হাতপাখা প্রতীকে বরিশালে তিনটিসহ সারাদেশে আটটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী সমকালকে বলেছেন, নানা জায়গায় হাতপাখার প্রার্থীদের ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ। বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের দিন এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ভোট ডাকাতি করেছে। আজ্ঞাবহ মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন প্রতিকারে কিছু করেনি। নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হলেও আরও অনেক ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জয়ী হতেন।

সিলেটের জকিগঞ্জে দুটি ইউনিয়নে জয়ী হয়েছেন জমিয়তের প্রার্থীরা। গত বছর বিএনপি জোট ত্যাগ করা এই দলটির একজন প্রার্থী সুনামগঞ্জে জয়ী হয়েছেন। সিলেটে খেলাফত মজলিসের একজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামী ঐক্যজোটের দু'জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুটি দলও একসময় বিএনপি জোটের শরিক ছিল। জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফি বলেছেন, ভোটই তো ঠিকঠাক হচ্ছে না। হলে জমিয়ত আরও ভালো ফলাফল করতে পারত।