নৌকায় ভাসমান জীবন। মাছ ধরে চলে জীবিকা। অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে জীবন সংগ্রাম তাদের। এর মধ্যে থেকেই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে এক কিশোর। তার বসতি পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া বগী খালে। অদম্য এই কিশোরের নাম আবু ইউসুফ অভি। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে সে।
অভি কর্পূরকাঠি ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। বাউফলে মান্তা সম্প্রদায়ে (বেদে) অভিই প্রথমবার এসএসসি পাস করেছে।
অভি বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের বগী বটতলা এলাকার বেদে সম্প্রদায়ের ফরিদ সর্দার এবং মৃত রুনু লায়লার ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে অভি সবার ছোট।
মান্তা সম্প্রদায়ের সবাই তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তারা। কয়েক বছর আগে আরএসসি নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। ওই সংস্থার মাধ্যমে অভি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে। পরে জহিরুল হক নামের এক শিক্ষকের সহায়তায় ভর্তি হয় কর্পূরকাঠি ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ ৫ পেয়ে অভি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পরে কর্পূরকাঠি ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ করে। সবশেষ চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পায় সে।
অভি বলে, 'এবার এইচএসসির পর্ব শুরু করতে হবে। বিভিন্ন সময় আমাকে এলাকার অনেকে অর্থ সহায়তা দিয়েছেনে। সেই অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছি। ভর্তি আর বই কিনতে জমানো টাকায় হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে শুধু লেখাপড়া করতে চাই। ভবিষ্যতে কী হব, সেটার ভার সৃষ্টিকর্তার ওপর।'
অভির বাবা ফরিদ সর্দার বলেন, 'এর চাইয়া আল্লায় কী দিবে মোরে, নদীর পানিতে মোর চৌদ্দ পুরুষ খাইছে। নদীর জলেই থাহি, তয় মোর পোলাডারে আল্লায় কী করে, হেই আশায়ই আছি।'
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম মস্তফা বলেন, 'অভি একজন মেধাবী ছাত্র, ওর ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানবে সব বাধা-বিপত্তি।'
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, 'বিষয়টি আনন্দের। এক সময়ের অবহেলিত এই সম্প্রদায় এখন পিছিয়ে নেই।'