ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেতে সর্বত্র যখন চলছে লবিং-গ্রুপিং, দৌঁড়ঝাপ ও হানাহানি, তখন কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে ঘটেছে ব্যতিক্রমী ঘটনা। ইকবাল হোসেন বাহালুল নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা নৌকা প্রতীক পেয়েও মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় ওই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন আরেক আওয়ামী লীগ নেতা। এমন ঘটনা ঘটেছে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নে।

আগামী ২৯ নভেম্বর প্রার্থী যাচাই-বাছাই হবে। এদিন একক স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান রফি রাজুর প্রার্থীতা বৈধ হলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, আগামী ২৩ ডিসেম্বর আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ওই ইউনিয়নের দলীয় সদস্যদের নিয়ে গত ২৭ অক্টোবর প্রার্থী বাছাই ভোট হয়। এতে হাসান রফি রাজু ৩৮ ভোট, ইকবাল হোসেন বাহালুল ৩৩ ভোট ও পেয়ার আহমেদ ৪ ভোট পান। এরপর তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে এই ৩ জনের নাম পাঠানো হয়। পরে দলের মনোনয়ন বোর্ড বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুলকে দলীয় মনোনয়ন দেন। কিন্তু তিনি গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ থাকলেও সেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এতে এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীশূন্য হয়।

নৌকা প্রতীক পাওয়া মো. ইকবাল হোসেন বাহালুল শনিবার রাতে সমকালকে জানান, তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাননি এবং মনোনয়ন পেতে ফরমও সংগ্রহ করেননি। দলের মনোনয়ন বোর্ড গোয়েন্দা রিপোর্টসহ বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে, এতেই তিনি খুশী। পরে স্থানীয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তিনি প্রার্থী হননি বলে জানিয়েছেন।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, পাঁচথুবী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আগামী ২৯ নভেম্বর তার প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই হবে।