গাজীপুরের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে গুরুতর কিছু অভিযোগ। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গাজীপুরের সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া টেন্ডার, আরএফকিউ, বিভিন্ন পদে অযৌক্তিক লোকবল নিয়োগের অভিযোগ এসেছে। এছাড়াও বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ভুয়া বিল বাউচারের মাধ্যমে ও একই কাজ বিভিন্ন প্রকল্পে দেখিয়ে অর্থ ‘আত্মসাৎ করতেন’ বলে অভিযোগ এসেছে। এছাড়া প্রতি বছর হাট বাজার ইজারার অর্থ যথাযথভাবে নির্ধারিত খাতে জমা না রাখাসহ নানাবিধ অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভূমি দখল ও ক্ষতিপূরণ ব্যতিত রাস্তা প্রশস্তকরণ সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে সিটি করপোরেশন মতামত জানতে চাওয়া হলে এখনও পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. জহিরুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিনিষেধ পরিপন্থি কার্যকলাপ, দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অপশাসনের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করে দেওয়া গাজীপুর সিটি মেয়রের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। 

মেয়র থেকে পদত্যাগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের দাবিতে গাজীপুর নগরের কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। 

তখন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ অতি উৎসাহী হয়ে আমার বক্তব্য এডিট করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভাইরাল করেছে। আমি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার।’

পরে ৩ অক্টেবর দলের স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা শোকজ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে এর জবাব দিতে বলা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের আগেই শোকজের জবাব দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান জাহাঙ্গীর। যদিও শেষপর্যন্ত ক্ষমা পাননি তিনি। ১৯ নভেম্বর তাকে দল থেকে আজীবন বহিস্কার করা হয়।

গত ২৪ নভেম্বর মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত এক মামলায় আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। অপর তিনজন হলেন- জয়দেবপুরের পাইনশাল গ্রামের আলফাজ, পশ্চিম ডগরী গ্রামের হারুনুর রশিদ ওরফে ঠাণ্ডু এবং বি কে বাড়ী গ্রামের ফজলুল হক। রুলে মেয়র জাহাঙ্গীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- জানতে চাওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিসংক্রান্ত এক মামলায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। রিট আবেদনটি করেন স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে  মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি রাজবাড়ী পৌর শাখার সভাপতি শশী আক্তার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।