ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ প্রার্থী শাকিল আহম্মেদের সমর্থকদের আক্রমণে সতন্ত্র প্রার্থী ভিপি মারুফের এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতির ভোরে উপজেলার খাগাতোয় বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মো. মাসুদ মিয়া (৩৫)। তিনি উপজেলা রতবপুর ইউনিয়নের খাগাতোয়া গ্রামের মঙ্গল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, ভোরে মোহাম্মদ মাসুদ তার ভাগ্নিকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাচ্ছিলেন। পথে খাগাতুয়া ভোরের বাজারে চা খাওয়ার সময়, তিনটি সিএনজি যোগে নৌকার সমর্থক এডভোকেট রব মিয়া,শফিক মিয়া, আলম মিয়া,ফজু ও লিটন মিয়ার নেতৃত্বে একদল যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে, এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মাসুদকে রক্তাক্ত করে। পরে তাকে সিএনজিতে উঠিয়ে নিয়ে খাগাতুয়া পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় কুপিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকজন মাসুদকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে ঢাকায় রেফার করেন। পথে মাসুদের মৃত্যু হয়। এদিকে মাসুদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রতনপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রতনপুর ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মাসুদের ভাগ্নি শারমিন আক্তার জানান, তার ও তার মায়ের চোখের সামনে এডভোকেট রব মিয়া,শফিক মিয়া,আলমসহ কয়েজন সন্ত্রাসী সিএনজি নিয়ে এসে তার মামাকে কুপিয়ে সিএনজি দিয়ে পশ্চিম পাড়া শাকিল মিয়ার নৌকার অফিসের সামনে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আবার কোপায়। শারমিনের দাবি,আনারস মার্কার নির্বাচন করার কারণে তার মামাকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক মুকবুল হোসেন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাকিল সমর্থিত সমর্থকরা নির্বাচনে তাদের মাঠের অবস্থা ভালো না টের পেয়ে প্রতিপক্ষের উপর এ হামলা চালিয়েছে। এ হামলার মূল হোতা আ’লীগ প্রার্থী শাকিল এডভোকেট রব মিয়া ও আবদুল হক সাহেব ।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি মারুফ বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার কর্মী মাসুদের উপর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়ে তাকে  হত্যা করেছে। তার দাবি,  প্রতিপক্ষের লোকজন তার কর্মী সমর্থকের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।

এই বিষয়ে নৌকা'র প্রার্থী শাকিল বলেন, এই ঘটনার সাথে আমার কোন কর্মী সমর্থক জড়িত না। এটা তাদের পূর্ব বিরোধের জের ধরে ঘটেছে।

নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশিদ বলেন,এটা একটি বিচ্ছিন ঘটনা। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ওসি এবং সার্কেলকে জানিয়েছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।