কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ উদ্ধার করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে মাদক পাচারের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জেলেসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের বহনকারী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও জাল জব্দ করা হয়।

আটকরা হলেন- কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী ১৮নং রোহিঙ্গা শিবিরের মৃত বশির আহম্মদের ছেলে মো. কেফায়েতুল্লাহ (২৮), টেকনাফের মোচনী রোহিঙ্গা শিবিরের মৃত আহম্মদ হোসেনের ছেলে মো. জমির হোসেন(৫০), টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ হাজী পাড়া এলাকার কালা মিয়ার ছেলে মো.হোসেন (২৭), উত্তর পাড়া মো. হাসানের ছেলে মো. আক্তার হোসেন(৩২), মাঝের পাড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো.সামসুল আলম(২৫), হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোড়া এলাকার মৃত সুলতান আহম্মদের ছেলে মো. করিম (২৭)।

মঙ্গলবার দুপুরে  সদর দপ্তর ব্যাটালিয়নে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর রুবাইয়াৎ কবীর, উপ পরিচারক লে. এম মুহতাসিমবিল্লাহ শাকিল।

বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক  লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান জানান, সোমবার দুপুরে টেকনাফের মিস্ত্রিপাড়া ঘাট এলাকায় নাফ নদীর মোহনা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার গোপন খবর পায় বিজিবি । এরই ভিত্তিতে শাহপরীর দ্বীপে বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সন্দেহভাজন একটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার দেখলে তাতে তল্লাশি চালানো হয় এবং এতে থাকা পাঁচ জেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ট্রলারের তেলের ট্যাংকের ভিতর থেকে অভিনব পদ্ধতিতে রাখা ফিটিং অবস্থায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যমানের ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

তিনি  আরও জানান, একইদিনে দুপুরে টেকনাফের দমদমিয়ায় জাদিমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে একটি বাড়িতে ইয়াবা লুকানোর খবর পেয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহলদল সেখানে অভিযান চালায়। পরে এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে ওই বাড়ির মালিক মো. করিমকে (২৭) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারই দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘরের ফলস সিলিংয়ের উপরে লুকিয়ে রাখা ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ওই ঘরের খাটের নিচ হতে একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

 লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটকদের নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও জাল টেকনাফ শুল্ক গুদামে জমা করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।