নোয়াখালীর সদর উপজেলায় পূর্ব চম মটুয়া ইউনিয়নের চর বাঞ্চারাম রাস্তার দিঘীসংলগ্ন এলাকা থেকে আব্দুর রহিম (২২) নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পরিবারের দাবি, জমিসংক্রান্ত ‘বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করে’ মরদেহ ফেলে রেখে গেছে। 

নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. শাহেদ উদ্দিন ও পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের হুমায়ন কবিরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিহত যুবক আব্দুর রহিম (২২) সদর উপজেলার ২০ নং আন্ডারচর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের মো. হোসেন আহমেদের ছেলে। 

হোসেন আহমেদ সমকালকে জানান, আবদুর রহিম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ চালাত। সে অবিবাহিত ছিল। সোমবার দুপুরে খাবার শেষে বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে যায় আবদুর রহিম। প্রতিদিন রাত ৮-১০টার মধ্যে সে বাড়ি ফিরে আসে। 

কিন্তু সোমবার আবদুর রহিম নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না আসায় তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে রাত ১০টার দিকে কল করলে তা বন্ধ তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সম্ভাব্য সকল স্থানে তার সন্ধান চেয়েও পাওয়া যায় নি। 

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী হাত-পা বাঁধা এক যুবকের মরদেহ দেখতে পেলে খবর দেন রহিমের পরিবারকে। স্বজনরা সেখানে গিয়ে আবদুর রহিমের মরদেহ শনাক্ত করেন। 

মরদেহের অদূরেই তার অটোরিকশা এবং মোবাইলের সিমটি পাওয়া যায়। তবে মোবাইল সেটটি পাওয়া যায়নি। নিহত যুবকের বাবা আরও বলেন, ‘স্থানীয় হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার ১ একর ১৩ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলছিল। গত কয়েক মাস আগে হুমায়ুন কবিরের ছেলে রুবেল ও রানা আবদুর রহিমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরেই হুমায়ন কবির ও তার ছেলেরা আমার ছেলে আবদুর রহিমকে অপহরণ করে আন্ডার চর থেকে এনে পার্শ্ববর্তী পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়নে এনে হাত পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে। গতকাল রাত থেকে হুমায়ন কবির ও তার ছেলেরা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় তার ছেলেরাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।’ 

সদর উপজেলার ১৯ নং পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম বলেন, ‘নিহত যুবক পেশায় অটো রিকশাচালক এবং অত্যন্ত সহজ সরল স্বভাবের ছিলেন।’