রাতে তিন প্রবাসীর বসতবাড়িতে পটকা ছুড়ে মারার প্রতিবাদ করায় সালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ওই গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় শনিবার রাতে আবারও তাদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী, এলাকাবাসী ও থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নতুন মূলগ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল কাশেমের বসতবাড়ির মধ্যে ঈদের রাতে প্রতিবেশী জাহান আলীর ছেলে আবুল কালাম পটকা ফুটাতে থাকে। এ সময় আবুল কাশেমের স্ত্রী সালেহা বেগম প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে পরদিন ২২ জুলাই সন্ধ্যার দিকে আবুল কালাম ও আব্দুল ওয়াদুদ তাদের বাড়িতে ঢুকে সালেহা বেগমকে কুপিয়ে জখম করে। এ ছাড়া তার বাঁ হাত ভেঙে দিয়েছে তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসাধীন সালেহা বেগম অভিযোগ করেন, আমার স্বামী সৌদি আরব, বড় ও মেজ ছেলে দুবাই প্রবাসী। ছোট ছেলে ও এক পুত্রবধূকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করি। মাদকাসক্ত আবুল কালাম বিভিন্ন সময় মাতাল হয়ে খারাপ উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটিয়ে থাকি।

সালেহা বেগমের ছোট ছেলে আবু হুরাইরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি তার মা শনিবার থানায় অভিযোগ করেছেন এ কথা জানতে পেরে কালামের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে হামলা করে। এ ছাড়া তার ভাবিকে নিয়ে আবুল কালাম অশ্নীল কর্থাবার্তা বলে। যে কারণে তারা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি জানান, কালাম যুবলীগের ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করে। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

আবুল কালামের মোবাইলে বারবার কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার বাবা জাহান আলী বলেন, 'কালাম উচ্ছৃঙ্খল হয়ে গেছে। ও আমার কথাও শোনে না। ওকে ভালো করার জন্য বিয়ে দেওয়া হলেও ওর ব্যবহারে কিছুদিন পর বউ চলে গেছে।'

কেশবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক পিন্টু লাল দাস বলেন, সালেহা বেগমের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির তদন্ত চলছে।