নোয়াখালী সদর উপজেলায় দাফনের ৩ মাস ২১ দিন পর মারজাহান বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে, যাকে গত জুনে ‘পরকীয়া প্রেমের জেরে’ হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

আদালতের নিদের্শে রোববার দুপুরে উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামের কবরের স্থান থেকে এ মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: তারিকুল ইসলাম, সুধারাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. নূর নবী ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। 

উত্তোলনের পর মারজাহান বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সুধারাম থানার ওসি মো. শাহেদ উদ্দিন সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে একই স্থানে লাশটি দাফন করা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার এসআই নূর নবী বলেন, ‘মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় গত ৩ এপ্রিল সদর উপজেলার উত্তর শুল্লূকিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহাগ তার স্ত্রী মারজাহান বেগমকে (২৮) রাতে হত্যা করেন। পরে মারজান বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে আসামিরা প্রচার করেন।’

গত ১৬ জুন নোয়াখালীর আমলি আদালতে মারজাহান বেগমের শাশুড়ি রহিমা বেগম তার স্বামী আবদুল খালেক, ছেলে মো. সোহাগ,রাজু এবং মেয়ের স্বামী জামাল উদ্দিনকে আসামি করে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রহিমা বেগম জানান, মারজাহানের মরদেহ গোসল করানোর সময় তার গলা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন দেখতে পান তিনি। ওই সময় প্রতিবাদ করলে স্বামী ও ছেলেরা তার মুখ চেপে ধরে ঘরে নিয়ে বলে, এসব বললে পুলিশ সবাইকে থানায় নিয়ে যাবে। এসময় তাকে মেরে ফেরার ‘হুমকি’ও দেয়া হয়।

রহিমার অভিযোগ, শি‘শু সন্তানদের জমি ও নগদ টাকা দেওয়ার শর্তে স্থানীয়ভাবে মারজাহানের বাবা-মায়ের সঙ্গে সমঝোতা করেন আসামিরা। পরে থানায় খবর না দিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়। মারজাহানের মরদেহ ধোয়ার সময় নারীরা আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানালে তাদের সঙ্গেও সমঝোতা করা হয়।’

গত ৬ জুলাই ওই হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. সোহাগকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে সুধারাম থানার পুলিশ। মামলার অপর তিন আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।