ইটভাটার চিমনি থেকে আর ধূসর কিংবা বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বের হওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে না। সড়কে নেই অবৈধ উপায়ে তৈরি করা ইট নেওয়ার বাহনগুলোর দাপট। জমি থেকে টপসয়েল বা উর্বর মাটি কেটে বিক্রিও কমে গেছে। গ্রামীণ জনপদ আর বনবাদাড়ের প্রাণিকুলে ফিরে এসেছে স্বস্তি। গাজীপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৩৫টি ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এমন পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু মহানগরেই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৭৪টি ইটভাটার সবক'টি বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১৬১টি ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, গত এক বছর তিন মাসে মহানগরের সবক'টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মালিকদের কাছ থেকে ছয় কোটি ৭১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৬১টি ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মানুষ ও পশুপাখির মধ্যে এখন স্বস্তি ফিরে এসেছে। দুই যুগ আগে যেমন ছিল গ্রামীণ পরিবেশ, ঠিক সে রকম অবস্থায় ফিরে এসেছে। ভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়লেও সামগ্রিক অর্থে লাভের পাল্লাটাই ভারি। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে যেসব এলাকায় ফসল হতো না, সেখানে এখন আবাদ হচ্ছে।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী সরকার মহানগরের সব ইটভাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ভাটা মালিকদের চিঠি দিয়ে সেগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনার পরও ছয়-সাত বছর ধরে দিব্যি ইট উৎপাদন করে আসছিলেন মহানগরের ১৭৪টি ভাটার মালিক। এক পর্যায়ে উচ্চ আদালত অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও উচ্ছেদের আদেশ দেন। পরে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মাঠে নামে পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত এক বছর তিন মাসে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকার ৩৩৫ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে বন্ধ এবং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু ইটভাটা নয়, নদী দূষণের দায়ে ৫৫টি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে চার কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার কেজি।

জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটার কারণে সাধারণ মানুষ নানাভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এসব ভাটা বন্ধ করে দেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর সেটা করতে পেরেছে। এখন ফসলে ভরে উঠছে সেই সব বিরাণভূমি।

মন্তব্য করুন