কক্সবাজারের ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে আরও ১ হাজার ৭৫৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে সেখানে পৌঁছান তারা।

এর আগে বুধবার সকাল ও বিকেলে ‘চল চল ভাসানচর চল’ স্টিকার লাগানো বাসে করে উখিয়া থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে চট্রগ্রামে পৌছেন রোহিঙ্গারা। এই নিয়ে পঞ্চম ধাপে ১৩ হাজার ৭২৩ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবির থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলো।

এ প্রসঙ্গে ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপ-প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির জানান, পঞ্চম ধাপে দ্বিতীয় দলের ১ হাজার ৭৫৯ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার প্রস্তুতি শেষে তাদের ঘরে তুলে দেওয়া হয়েছে।  বুধবার ২ হাজার ২৫৭ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছেছিল। এখানে আসা রোহিঙ্গারা সবাই ভাল আছেন, তারা এখানে সুন্দর জীবন যাপন করছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলা, ধর্ষণ-নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে বাস করছে। এদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে পালিয়ে আসে। রোহিঙ্গাদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ মানুষকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ সামছু-দৌজা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্রগ্রাম থেকে ১হাজার ৭ ৫৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে ঘাটে পৌঁছান। তারা ভাসানচরের আবাসন দেখে খুব মুগ্ধ। তাদের সবাইকে আবাসন সেন্টারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন ভাসানচরে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

এদিকে শুরুতে গত বছরের ৪ ও ২৯ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪৬ জন রোহিঙ্গাকে ওই চরে স্থানান্তর করা হয়। সর্বমোট পাঁচ দফায় ১৩ হাজার ৭২৩ জন রোহিঙ্গা সেখানে পৌঁছে বসবাস শুরু করেছে। এ ছাড়া এরও আগে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ রোহিঙ্গাকেও গত বছরের মে মাসে সেখানে নেওয়া হয়।
   
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

মন্তব্য করুন