রংপুরে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশেনের বিভাগীয় সভা 'সন্ত্রাসী হামলায়' পণ্ড হয়ে গেছে। সংগঠনের নেতৃত্বের বাইরে থাকা স্বার্থান্বেষী মহল অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে সভা পণ্ড করেছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন পূর্বক বঙ্গবন্ধু ঘোষিত  ১৯৭৩ সালের ১০ ধাপে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন পার্থক্য ১ অনুপাত ৫ করা, পূর্বের ন্যায় শতভাগ পেনশন প্রথা পুনর্বহাল, এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি চালুসহ সচিবায়লয়ের ন্যায় সচিবালয়ের বাইরের সরকারি কর্মচারীদের পদ ও বেতন বৈষম্য দূর করা, ব্লক পোস্টধারীদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি,  আউটসোসিং পদ্ধতি বাতিল করে উক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, সরকারি কর্মচারীদের পূর্বের ন্যায় ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, বেতন সমতাকরণ, ৯ম পে স্কেল প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত শতকরা ৫০ ভাগ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর করাসহ ৭ দফা দাবিতে শুক্রবার সকালে টাউন হলে বিভাগীয় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশেন। সেখানে ওই দুই সংগঠনের নেতৃত্বের বাইরে থাকা একটি মহল ভাড়া করা গুণ্ডা দিয়ে সভা বানচাল করে। এরপর সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নগরীর চেকপোস্টে এনজিও ফোরামের মিলনায়তনে সভা করতে চাইলে সেখানেও তারা হামলাসহ ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সভা পণ্ড করে দেয়।

সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ওয়ারেছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহমেদ মজুমদার বলেন, আমরা সব বিভাগে কর্মচারীদের জীবন-মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সভা করছি। কিন্তু সংগঠনের নেতৃত্বের বাইরে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোহাম্মদ আলী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মরত হেদায়েত হোসেন, লালমনিরহাটের পরিবার পরিকল্পনা অফিসে কর্মরত বাদশা মিয়া রংপুরের নয়ন, ঢাকা মেডিকেলের কর্মচারী রউফ ও বাবুর নেতৃত্বে আমাদের সভা বানচাল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের নেতৃবৃন্দসহ অংশগ্রহণকারীদের গায়ে হাত তোলা ও ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিহত করার মত আমাদের লোকজন ছিল, কিন্তু আইন শৃঙ্খলার অবনতি আমরা ঘটাতে চাইনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোহাম্মদ আলী সংগঠনকে নিজের কুক্ষিগত করতে যে ষড়যন্ত্র করছে তারই একটি অংশ আজকের ঘটনা।

এ ব্যাপারে কথা বলতে মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।