কারা বিভাগের সবার মুখে কুলুপ

ওসি প্রদীপের ডিভিশন নিয়ে 'কানামাছি' খেলা

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ডিভিশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে চট্টগ্রামে। গত ২৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তিনি এ সুবিধা ভোগ করছেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। প্রদীপ একটি দুর্নীতি মামলার আসামি হিসেবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে তার ডিভিশন সুবিধা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

চট্টগ্রাম কারা উপ-মহাপরিদর্শক একেএম ফজলুল হক, সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন ও জেলার রফিকুল ইসলামকে ফোন করলেও কেউ ফোন ধরেননি। তবে এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে ডিভিশনের মতো সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আশফাকুর রহমানের আদালত দুর্নীতি মামলায় একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে বলা হয়, প্রদীপ দাশ আত্মীয়-স্বজন ও তার আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। তবে কারাবিধি অনুযায়ী টেলিফোনে কথা বলতে পারবেন। কারাগার থেকে আসা একটি রিপোর্টের ওপর শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আত্মীয়-স্বজন ও আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসামিপক্ষ আবেদন করলে তার ওপর শুনানি শেষে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন।

দুদক পিপি আইনজীবী মাহমুদুল হক জানান, আত্মীয়-স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে প্রদীপ সাক্ষাৎ করতে পারবেন- এমন আদেশটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আদালত। কারণ করোনাকালে আইজি প্রিজন অফিস থেকে একটি সার্কুলার প্রকাশিত হয় যে, করোনায় কারাগারে সরাসরি দেখা-সাক্ষাতের কোনো সুযোগ নেই।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারাগারে থাকা ওসি প্রদীপকে দুদকের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে চট্টগ্রাম কারাগারেই আছেন প্রদীপ কুমার দাশ।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে কপবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। সেটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিলে প্রদীপ, লিয়াকতসহ আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।