মাস্ক পরতে বলায় ফার্মাসিস্টকে যুবলীগ নেতার মারধর

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২০   

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধপত্র ছিটিয়ে ফেলা হয়েছে

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধপত্র ছিটিয়ে ফেলা হয়েছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার দিঘলিয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্টকে মারধর করে সরকারি ওষুধ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। ফার্মাসিস্ট সুজন মিয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের ছেলে।

সুজন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম লোকজন নিয়ে মাস্ক ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। তাদের মাস্ক পরার কথা বললে ও সরকারি নির্দেশ মানার জন্য অনুরোধ করা হয়। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার মাস্ক খুলে নেয় তারা। পরে যুবলীগের সভাপতির নির্দেশে আমাকে মারধর করা হয়। হাসপাতালের ওষুধ লুট করে তারা। আমাকে সহকর্মী ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাটুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যুবলীগের সভাপতি আমাকে নানা ভয়ভীতি ও বদলির হুমকি দিয়ে আসছে। 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সাটুরিয়া ইউএনও আশরাফুল আলমের অফিসে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়। আলোচনা শেষে তিনি সুজনকে স্থানীয় বা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন বলে জানান। এরপর সুজন সাটুরিয়া থানায় যুবলীগের সভাপতিসহ চারজনকে আসামি করে অভিযোগ করেছেন। 

সাটুরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম মারধরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ লুট করা হয়নি। আমাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য করা হয়েছে।

জেলার পরিবার ও পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মো. গোলাম নবী বলেন, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মতিয়ার রহমান মিঞা বলেন, বিষয়টি সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।