মুলাদীতে বসতবাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলা, ১১ জনকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২০     আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২০   

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের মুলাদী উপজেলার চর কমিশনার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নারী ও মাটিকাটা শ্রমিকসহ ১১ জনকে কুপিয়ে জখম ও টেঁটাবিদ্ধ করেছে প্রতিপক্ষরা। 

বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় গুরুতর আহত ৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুলাদী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মুলাদী উপজেলার চর কমিশনার মৌজার ৮৪ শতাংশ জমি নিয়ে কৃষক শাহজাহান বেপারীর সঙ্গে একই গ্রামের ফোরকান ফকিরের বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনিরুজ্জামান জানান, নিজেদের দখলে থাকা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহজাহান বেপারী তার লেবার নিয়ে মাটি কাটতে শুরু করেন। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে কথা কাটাকাটির পর চর কমিশনার গ্রামের ফোরকান ফকির, তোতা সরদার ও শামীম খানের নেতৃত্বে রামদা, টেঁটা, বল্লমসহ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ৩০-৩৫ জন লোক শাহজাহান বেপারীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ওই বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তাদের রামদা ও বল্লমের কোপে এবং টেঁটাবিদ্ধ হয়ে এ সময় মাটিকাটা ৪ শ্রমিকসহ বাড়ির ১১ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় নিলুফা বেগম (৪০), শাহজাহান বেপারী (৫৫) ও সোহাগ মল্লিককে (৩০) মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং মাটিকাটা লেবার আরিফ (২৫), লিটন (৩০), সজীব (২৬) ও রিয়াজকে (২২) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আহত মাইদুল বেপারী, স্বপন বেপারী, সাইফুল সরদার ও সবুজ বেপারীকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শাহজাহান বেপারী বলেন, 'আমাকে হত্যা করে জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তারা আমার ৪ লেবারসহ বাড়ির মোট ১১ জনকে কুপিয়ে এবং টেঁটাবিদ্ধ করে আহত করেছে। আমার বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর এবং স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোবাইল ও লেবারদের বেতনের প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা লুট করেছে।' 

মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা জানান, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত করে মামলা রেকর্ড করাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

ঘটনার পরে র‌্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শাহরিয়ারের নেতৃত্বে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি র‌্যাব।

এদিকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান ফকির বলেন, 'আমাদের জমিতে তারা বালু ভরাটের জন্য মাটি কাটছিল। তখন বাঁধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ কয়েকজন একটু আহত হয়েছে। আমরা কারো বসতবাড়িতে ভাংচুর বা লুটপাট করিনি। তবে পুলিশকে না ডেকে নিজেরাই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঁধা দিতে গেলেন কেন- এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।