সিরাজগঞ্জে হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতার ঢাকায় মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২০   

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

এনামুল হক বিজয়

এনামুল হক বিজয়

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে ৯ দিন লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সিরাজগঞ্জের জেলা ছাত্রলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বিজয়। 

রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে   চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

সদর থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, অনলাইনে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় সুরতহাল প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিজয়ের মরদেহ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় চালা গ্র্রামে পাঠানো হবে। সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন করা হবে। 

এদিকে, বিজয়ের মৃত্যুর পর জেলা ছাত্রলীগের একাংশ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেছেন।

গত ২৫ জুন বিকেলে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে আসার পথে জেলা শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় বিজয়কে মারপিট ও কোপানো হয়। দলীয় আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে হামলা করেন তারই প্রতিপক্ষরা। ২৬ জুন বিজয়কে গুরুতর অবস্থায় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় বিজয়ের বড় ভাই রুবেল আহম্মেদ বাদী হয়ে জেলা ছাত্রলীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব আহম্মেদ জিহাদ ও আল আমিন এবং তাদের সহযোগী ছাত্রলীগের সমর্থক আশিকুর রহমান বিজয়, সাগর ও জাহিদুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। 

এরইমধ্যে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের আলোচিত দুই সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব আহম্মেদ জিহাদ ও আল আমিনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আল আমিন, আশিকুর রহমান বিজয়, সাগর ও জাহিদুলকে গ্রেফতার করেছে। অপর বহিষ্কৃ নেতা শিহাব আহম্মেদ জিহাদ পলাতক রয়েছেন।

বিজয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা শহরে ও কামারখন্দ উপজেলায় উত্তেজনা দেখা দেয়। জেলা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বাড়তি পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

হাজী কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় কামারখন্দের চালা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। কামারখন্দ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বিকেল ৩টায় জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। মরদেহ আসার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হবে।