চট্টগ্রামে মামলা প্রত্যাহারে ধর্ষিতা শিশুর পরিবারকে হুমকি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বয়স মাত্র ১৩ বছর। পরিবারের আর্থিক অসচ্চলতার কারণে নিরুপায় হয়ে মা-বাবা মেয়েকে কাজ করতে দেন মো. মাহাবুবুর রহমানের বাসায়। সামান্য টাকার বিনিময়ে বাসায় কাজ করার সুযোগ দেন তিনি। তবে প্রায় এক বছর ধরে শিশুটিকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করতেন মাহাবুবুর। কখনো প্রতিবাদ করতে চাইলে দেখানো হতো ভয়-ভীতি। পরিবারের সদস্যদের সাথেও কথা বলতে দিতেন না তিনি। ‘শিশু সুরক্ষা বিষয়ক জাতীয় কলসেন্টার ১০৯৮’ এর মাধ্যমে ফোন পেয়ে তালাবন্ধ তার ঘর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। মেডিকেল রিপোর্টে উঠে আসা ধর্ষণের প্রমাণ ও পুলিশ রিপোর্ট, জবানবন্ধিসহ যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে একমাত্র আসামি মাহাবুবুর রহমান এখন ওই শিশু গৃহকর্মীর দারিদ্রতাকে পুঁজি করে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযাগ করেছেন শিশুটির পরিবার।

মো. মাহাবুবুর রহমান ইপসার সাবেক পরিচালক। এমন অপরাধের কারণে ইপসার শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডার নীতিমালা অনুসারে তাকে চাকরিচ্যুত করেছে ইপসা কর্তৃপক্ষ। ইপসার প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হয়ে মাহাবুবুর রহমান যে কাজটি করেছে তা সংস্থার নীতিমালার পরিপন্থী। সিনিয়র কর্মকর্তা হয়ে অপকর্মে জড়িত থাকায় ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় ইপসার বাস্তবায়িত শিশু সুরক্ষা ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক দুইটি বৃহৎ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শতাধিক কর্মী বেকার হয়ে গেছেন। মামলা তুলে নিতে শিশুটির পরিবারকে ও চাকরি পুনর্বহালে ইপসা কর্তৃপক্ষকেও হুমকি দিচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে আমরা থানায় জিডি করেছি।’ 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমীর হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণের তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় তা আদালতে পাঠিয়েছি। মামলার একমাত্র আসামি জামিনে বের হয়ে পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবার উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার এমন অপকর্মে আমরা বিব্রত।’ 

নারী নির্যাতন রোধে চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহবায়ক ও এডাব-চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা (পারু) বলেন, ‘পারিবারিক অসচ্ছলতার সুযোগে শিশুটির পরিবারকে মামলা তুলে নিতে যে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে তা কখনো উচিত নয়। শিশুটির পরিবারকে সহায়তা দিতে আমরা পাশে আছি।’ 

শিশুটির মা বলেন, ‘জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে আসামি মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এত আমরা আতঙ্কে আছি।’ 

নির্যাতিত শিশুটির বাড়ি সন্দ্বীপে। গত বছরের ২২ জুলাই মো. মাহাবুবুর রহমানের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ধর্ষিত শিশুটিকে তালাবন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ও জেলা সমাজসেবার কর্মকর্তারা। ২৩ জুলাই চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা।