ঈদ নেই আম্পান বিধ্বস্ত শ্যামনগরে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২০   

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

ছবি: সমকাল

ছবি: সমকাল

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ উল ফিতর। এক মাস রোজার পরে  প্রত্যেকে ভাগাভাগি করবেন ঈদ আনন্দ। ধনী-গরীব সবাই মাতবেন উৎসবের আমেজে। তবে সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার কারণে আর্থিক সংকট ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ছোবল কেড়ে নিয়েছে উপকূলবাসীর এবারের ঈদ উৎসবের সবটুকু।

পানিতে তলিয়ে থাকা ঘরবাড়ি উদ্ধারের চিন্তায় ব্যস্ত তারা। দিনে একবেলা খাবারের চিন্তায় ব্যাকুল পরিবারগুলোর কাছে তাই পৌছেনি ঈদ আনন্দ। শোবার জায়গা নেই এমন অবস্থায় নতুন জামা-জুতা, ভালো খাওয়ার চিন্তা কল্পনাতেও আনতে যেন দ্বিধা তাদের। আশ্রয় কেন্দ্র আর খোলা আকাশের নিচে রাত পার করা পরিবারগুলো দুঃস্বপ্নের মধ্যে বসবাস করছে।

ভাঙনমুখে থাকা দাতিনাখালীর শামিমা খাতুন বলেন, 'তিনবেলা খাবার জুটতেছে না, তাই ঈদ নে কোন ভাবনা নি। কোন জাগা থেকি কিছু পালি ছাবাল-মেয়ি দুটোর সেমাই পায়েশ খাবিয়ে ঈদের দিনডা কাটিয়ে দেবানে।' আম্পনের আঘাতে লণ্ডভণ্ড শ্যামনগরের নেবুবুনিয়া, জেলেখালী, গোলাখালী, বুড়িগোয়ালীনি, দর্গাবটি আর দাতিনাখালীর গল্পটাও শামিমার মতো।

বানের তোড়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া দুর্গত এ জনপদের হাজারও পরিবারের কাছে এবারের ঈদের কোন উচ্ছ্বাস নেই। ঈদের সেমাই পায়েস খাওয়ার চেয়ে তাদের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে ভাঙন কবলিত উপকূলের বাঁধ মেরামত করা। বাস্তুভিটায় ফিরতে উম্মুখ ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, করোনার মধ্যেও ঈদের ছোট প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু বুধবারের ঘূর্ণিঝড় সব আশা ভেঙেচুরে দিয়েছে।

বুড়িগোয়ালীনি গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, 'ভাটায় ফিরলিও জোয়ারে বাড়ি ছাড়তি হচ্ছে, মাছের ঘের আর কাঁকড়ার প্রজেক্ট পানিতে তলায় গেছে। এমন দূরাবস্থায় নামাজ পড়ার মদ্দি আমাগির ঈদ সীমাবদ্ধ। সেমাই খাওয়ার খুশির চেয়ি ভাঙন কবলিত বাঁধে কাজ করা জরুরি হয়ি গেছে। ঈদের নামাজ শেষে তাই বাঁধের কাজে যাওয়া গালবে।'

ক্ষতিগ্রস্তরা জানায় ঈদ নিয়ে তাদের মধ্যে আর কোন উচ্ছ্বাস অবশিষ্ট নেই। করোনার শুরু থেকে আয় রোজগারহীন থাকায় চরম অর্থকষ্ট চলছিল। সর্বশেষ আম্পান তাদের ঈদের কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। এখন দ্রুত বসতভিটায় ফিরতে পারার স্বপ্ন সত্যি হলে তারা আবারও ঈদ নিয়ে আনন্দ করার নতুন ছবি আঁকবেন।

বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, করোনা এবং আম্পানের প্রাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা ঈদ পার করবেন। তবে সরকারি-বেসরকারি কিছু ঈদ সামগ্রী বিতরণ জরুরি ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে পৃথক বরাদ্দ না আসেনি। করোনা ও আম্পানের জন্য পাওয়া বরাদ্দ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে পৌছে দেয়া হচ্ছে।