সাতকানিয়া সার্কেল পুলিশ কর্মকর্তার মানবিক উদ্যোগ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০     আপডেট: ২৩ মে ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

করোনার এই দু:সময়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান মোল্যা

করোনার এই দু:সময়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান মোল্যা

চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্যা করোনার এই দুঃসময়ে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করেছেন এক বিশেষ মানবিক উদ্যোগ 'ঈদ আনন্দ ২০২০'।

১০০টি দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারকে প্রয়োজনীয় ঈদের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন তিনি ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে। এর আগেও শত শত মানুষকে ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে ত্রাণ দিয়েছেন তিনি।

এবারে ঈদ উপহার দেন তিনি লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদে অবস্থিত সিটিজেন পার্ক নামক কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গনে। উক্ত অনুষ্ঠানেও বিশেষত্ব পরিলক্ষিত হয়। টেবিলে টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয় সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, চিনি, গুড়া দুধ, সয়াবিন তেল, নুডলস ও চাল। যেন সাজানো পরিপাটি ঈদ বাজার। দুঃস্থ ও অসহায় লোকজন সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য বিধি মেনে হাত ধুয়ে, মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে সাজানো খাদ্য সামগ্রী নিজ হাতে তুলে নেন। সুশৃঙ্খলভাবে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। লোহাগাড়া থানা পুলিশের সদস্যরা উক্ত কার্যক্রমে তাকে সহায়তা করেন।

করোনার এই দুঃসময়ে এবার ভিন্ন ভাবে উৎযাপিত হবে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। প্রায় দুই মাস যাবত চলমান লকডাউন ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ এর কারনে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের ঘরে আনন্দের পরিবর্তে অভাবের ঘনঘটা। সবখানে অনিশ্চয়তা। মধ্যবিত্ত ও ছোট ব্যবসায়ীরা আছেন নিরব কষ্টে। না পারছেন হাত পাততে, না পারছেন নিজেদের খাদ্য নিজেরা জোগাড় করতে। উভয় সংকটে পরেছেন তাঁরা। ইতিপূর্বে সাহায্য গ্রহণে অনভ্যস্ত এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে আসন্ন ঈদের আনন্দ নেই। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর প্রভাবে অনেক প্রবাসী ভাই-বোন কাজ হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছেন। এই প্রবাসীরা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় দেশে তাদের পরিবারের লোকজন বিপদে আছেন। তাদের মনোঃকষ্ট গুমরে মরছে মনের গহীনে।

সাতকানিয়া সার্কেলের এই পুলিশ কর্মকর্তা করোনা দুর্যোগের শুরু থেকে এ সকল দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন। এসএমএস ও ফোন কলের ভিত্তিতে তিনি ইতিপূর্বে সাহায্যপ্রার্থী প্রবাসীদের পরিবারের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী নিজে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থানা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রবাসীরা তার এই কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে নিরবে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী। ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী খুঁজে খুঁজে দিচ্ছেন খাদ্য সহায়তা। জনমনে পুলিশকে করেছেন প্রথম আশ্রয়স্থল। তার গাড়ি দেখলে ছুটে আসছেন অসহায় মানুষজন। তিনিও সাধ্যমত তাদের পাশে দাড়াচ্ছেন। সবার কাছে এক নতুন পুলিশ, মানবিক পুলিশ।

এই সকল কার্যক্রম বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্যা বলেন, করোনা আমাদের জীবন ও জীবিকার উপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই সময় অনেক নিম্ব আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবার খাদ্য কষ্টসহ আর্থিক অনটনে পড়েছেন। শুরুতে সামাজিক দায়বদ্ধতার খাতিরে আমি সহ বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য এই সকল বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ায়। পরবর্তীতে অনেকেই আমাকে ফোন করে এবং মেসেজ দিয়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন সহায়তা চান। এই উদ্ভূত চাহিদার প্রেক্ষিতে আমি বিভিন্ন প্রোগ্রাম নিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ইতিপূর্বে এস এম এস এর ভিত্তিতে প্রবাসীদের পরিবারের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। মধ্যবিত্ত পরিবার এর পাশে থেকেছি। আজকে আসন্ন ঈদ উল ফিতর ২০২০ উপলক্ষে ১০০ নিম্ন আয়ের, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে খাদ্য উপহার প্রদান করেছি। আশা করছি এই একশো টি পরিবার ঈদের দিন এই খাদ্য সামগ্রী দিয়ে পেট ভরে খেতে পারবে। দুঃখের মধ্যেও তারা কিছুটা আনন্দ পাবে। তাদের আনন্দে আমরাও আনন্দিত হব।