গাছের অর্ধেক আমই ঝরে পড়েছে ঘূর্ণিঝড়ে

প্রকাশ: ২১ মে ২০২০   

নওগাঁ প্রতিনিধি

এভাবেই প্রতিটা বাগানের গাছের আম ঝরে পড়ে আছে -সমকাল

এভাবেই প্রতিটা বাগানের গাছের আম ঝরে পড়ে আছে -সমকাল

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আম চাষিরা বলছেন, ঝড়ে গাছের প্রায় ৫০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি।  বৃহস্পতিবার সকালে জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাগানে বাগানে পরে আছে ঝরে পড়া আম। ফেটে নষ্ট হয়েছে এর  অনেকগুলো। কোনো কোনো বাগানে আমের গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। ডাল ভেঙে পড়েছে অনেক গাছের।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১টা থেকে ২টার দিকে নওগাঁতে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ৮০০ আম চাষির প্রায় ৭ হাজার বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয় ১৫ মেট্রিক টন। এবার জেলায় সব মিলিয়ে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সবোচ্চ ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিকটন আম ঝরে পড়েছে। ভরা মৌসুমে আমের দাম ৪০ টাকা কেজি ধরলে এর দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৬০ ভাগেরও বেশি আম উৎপাদন হয় পোরশা ও সাপাহার উপজেলায়। 

সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি সাইফুর রহমান বলেন, ৪০ বিঘা জমির ওপর তার চারটি বাগান রয়েছে। ঝড়ে বাগানের ৩ হাজার গাছের অর্ধেক আম পড়ে গেছে। অনেক গাছ ঝড়ে উপরে গেছে। ঝরে পড়া আম ৩-৪ টাকা কেজির বেশি বিক্রি হবে না। যেগুলো ফেটে গেছে সেগুলো কেউ কিনবে না। 

সাপাহার উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, সাপাহারে এবার ৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার এমনিতেই বাগানগুলোতে আম কম ধরেছিল। এরই মাঝে এই ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো নিরূপণ করা যায়নি। তবে কিছু বাগান পরিদর্শন করে ধারণা হচ্ছে, গাছের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ আম পড়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আম চাষিদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।