প্রেমের বিয়ে হলেও যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০     আপডেট: ০৮ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন প্রেম করার পর বিয়ে হলেও চাহিদা মতো যৌতুক না পেয়ে একপর্যায়ে স্বামী আফজাল হোসেন ও তার বাড়ির লোকজন রাবেয়া বসরীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে গাজীপুরের নলজানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাবেয়ার বড় ভাই জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার জয়দেবপুর থানায় আফজালসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করেন, নলজানী গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে আফজাল হোসেনের সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই রাবেয়া বসরীর বিয়ে হয়। এর পর থেকেই তার স্বামী যৌতুক চেয়ে আসছিল। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্বামী পক্ষ। তাদের দাবি মেটাতে না পারায় রাবেয়ার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাধ্যমতো সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। তার বোনকে পিটিয়ে মেরেই ফেলেছে।

জয়নাল বলেন, বুধবার ১১টার দিকে শ্বশুর ফজলুল হক ফোনে জানায় রাবেয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন। খবর পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে ছুটে যান। ততক্ষণে স্বামী আফজাল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ঘরে ঢুকে খাটের ওপর রাবেয়ার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। পরে রাবেয়ার শ্বশুর ফজলুক হককে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাঘের বাজার এলাকার কাজী হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাত ১টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। খবর শুনে হাসপাতাল থেকেই পালিয়ে যান শ্বশুর ফজলুল হক।

নিহতের গলা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই জয়নাল। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।