কুলাউড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষা সংগ্রামী রওশন আরা বাচ্চু

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯   

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

জানাজা নামাজের আগে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাকে শেষ বারের মতো শদ্ধা নিবেদন করেন- সমকাল

জানাজা নামাজের আগে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাকে শেষ বারের মতো শদ্ধা নিবেদন করেন- সমকাল

কুলাউড়ায় নিজ গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ভাষা সংগ্রামী রওশন আরা বাচ্চু। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জানাযার নামাজের মধ্য দিয়ে নিজের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী ছোট ভাইয়ের কবরের পাশে সমাহিত হলেন তিনি। এর আগে বুধবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে কুলাউড়ার নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার তৃতীয় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নিজ এলাকাবাসী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

জানাজা নামাজের আগে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাকে শেষ বারের মতো শদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় রওশন আরা বাচ্চু'র অবদান উল্লেখ করে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, সাবেক এমপি আব্দুল মতিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র শফি আলম ইউনুছ, কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান, ভাষা রক্ষা স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি মুসলেহ উদ্দিন মজলিস, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক খাঁন সাহেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেণু, সাধারণ সম্পাদক আসম কামরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম, কুলাউড়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল হান্নান, সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, তাকে যেন সম্মানসূচক একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়। এজন্য সরকারের কাছে তারা দাবি জানান। এ সময় রওশন আরা বাচ্চুর পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার ছোট মেয়ে তানভীর ফারহানা ওয়াহিদ। তিনি বলেন, আমার মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল তার ছোট ভাইয়ের পাশে যেন কবর দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আমার মায়ের মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছে ছিল বাড়ির পাশে এক একর ৮ শতক জমি রয়েছে। সেখানে তার নামে যেন একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজের বিষয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে কয়েকবার এ নিয়ে আমার মা আলোচনা করেন।

কুলাউড়ার ভাষা সৈনিক কমরেড আব্দুল মালিক বলেন, রওশন আরা বাচ্চু ছিলেন কুলাউড়া তথা দেশের নারী নেতৃত্বের অগ্রসৈনিক। ভাষার জন্য তিনি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার এই সংগ্রামী অবদান ও ত্যাগ বর্তমান নারী সমাজের জন্য অনুকরণীয়। গত ৩ নভেম্বর সকাল সোয়া দশটায় ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।