স্বামীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, স্ত্রী ও প্রেমিক আটক

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০১৯      

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বাচ্চু মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী রিনা আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিক রফিক মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। 

রোববার সকালে উপজেলার খাল্লা গ্রামের উত্তর-পশ্চিম পাড়ার নির্জন কলাবাগান থেকে বাচ্চুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের বাহেরচর দক্ষিণ পাড়ার মৃত হারিস মিয়ার ছেলে। 

পুলিশ জানায়, বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের তুজু মিয়ার ছেলে রফিক মিয়ার ঘনিষ্ঠ সস্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে গত দুই বছর ধরে বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে রফিকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারপরও তাদের ফেরানো যায়নি পরকীয়া প্রেম থেকে। এতকিছুর পরও রফিকের সঙ্গে বাচ্চুর বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়ে যায়। স্থানীয় বাজারে বাচ্চু মিয়ার একটি দোকান ছিলো। শনিবার বিকালে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে দোকানের জন্য মালামাল কিনতে রফিকের মোটরসাইকেলে চড়ে ছয়ফুল্লাকান্দি বাজারে যান বাচ্চু। পরে রাত ১১টায় বাচ্চুর নিখোঁজের খবর পায় পরিবার। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এতে যোগ দেয় রফিকও। ভোরে সবাইকে একদিকে পাঠিয়ে রফিক যান কলাবাগানে। কিছুক্ষণ পর রফিক জানান, কলাবাগানের ভেতরে বাচ্চুর লাশ পড়ে আছে। তখনই সন্দেহ হয় সবার। পরে নিহতের স্ত্রী রিনা আক্তার ও ঘাতক রফিককে জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। 

নিহতের বড় ভাই মেজবাহ উদ্দিন সাগর বলেন, বাচ্চুর স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়টা গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু রাত ১১টায় বাচ্চুর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, রফিকের মোটরসাইকেলে চড়ে বাজারে যাওয়ার পর থেকেই বাচ্চুর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভোরে সবাইকে একদিকে পাঠিয়ে রফিক নির্জন জায়গায় গিয়ে বাচ্চুর লাশ দেখার কথা বলার পরই সবার সন্দেহ হয়। বাচ্চুর বউ ও রফিক মিলেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ সাগরের।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বাচ্চুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।