‘ও আল্লাহ, আল্লাহরে তোমার কাছে বিচার দিলাম’

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বুয়েটে নিহত আবরার ফাহাদের দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস -সংগৃহীত ছবি

বুয়েটে নিহত আবরার ফাহাদের দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাসের বয়স ৮৭ বছর। চোখে কম দেখেন, কানে ঠিক মতো শুনতে পান না। তবে নাতীকে মারার পর তিনি অনেকটা পাগলের মত হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, আহারে ওরা আমার নাতিকে পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছে, খুব কষ্ট দিয়ে মেরেছে। আমার নাতির কি অপরাধ? 

বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের বাড়ি কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় বসে সমকালকে এসব কথা বলেন আববার ফাহাদের দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাসে।

গফুর বিশ্বাস বলেন, সে নাকি বলেছিল পদ্মা নদী বর্ষাকালে শুকিয়ে যায়, আর বর্ষায় আমাদের পানি দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। এ কথা তো সকলে কয়। তার জন্য তাকে এভাবে মাইরে ফেলা হলো। ও আল্লাহ আল্লাহরে তুমি এর বিচার করবা, তোমার কাছে বিচার দিলাম। 

তিনি বলেন, আমার নাতি নাকি শিবির করে? সে কোন দল করে না। লেখাপড়া ছাড়া সে কিছু বুঝতো না

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ নিহত আবরার ফাহাদের পিতা ও মাতার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। এ সময় আবরারের বাড়িতে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে পরিবারকে সমবেদনা ও সান্তনা জানান। খুনিদের কঠোর শাস্তি হবে বলেও পরিবারকে আশস্ত করেন তিনি। 

এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী আহমেদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমউল হাসান অপু দেখা করে আবরারের পরিবারকে সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এসে আববারের মা-বাবাকে সমবেদনা ও সান্তনা দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের জেরে আবরারকে গত রোববার রাতে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে কয়েক ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ওইদিন রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির করিডোর থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন সোমবার রাতে নিহত আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে ওই রাতেই হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১১ নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার আবরার হত্যার ঘটনায় অমিত ছাড়াও মিজানুর রহমান ওরফে মিজান নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বুয়েটের ওয়াটার রির্সোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।