কী অপরাধ ছিল কিশোর সুলেমানের

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

কুলাউড়ায় মৃত্যুর আগে কিশোর সুলেমানকে এভাবেই রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয় - সংগৃহীত

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে সুলেমান (১৩) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কিশোরের বড় ভাই গতকাল রোববার পাঁচজনকে আসামি করে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে কুলাউড়া থানা পুলিশ আনু মিয়া (৪৫), তার স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৪০) ও মেয়ে আসলিমা বেগমকে (১৮) আটক করেছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলি গ্রামের মৃত বাজিদ আলীর ছেলে সুলেমান গত শুক্রবার সকালে নিজ বাড়ির উত্তর পাশে এক বটগাছের নিচে বসে ছিল।

এ সময় মূল আসামি রেদোয়ান মিয়ার নিকটাত্মীয় মন্টু মিয়াকে দিয়ে একই গ্রামের আনু মিয়ার বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় সুলেমানকে। আনু মিয়ার ছেলে রেদোয়ান মিয়ার নেতৃত্বে সুলেমানকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে হাত বেঁধে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও নিহতের স্বজনরা এগিয়ে এলে আসামিরা দেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক মিয়াসহ আরও লোকজন এসে সুলেমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন শনিবার রাত ৯টায় সেখানে সুলেমানের মৃত্যু হয়।

কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুক মিয়া জানান, পূর্বশত্রুতা থেকে সুলেমানকে মারা হতে পারে। তবে কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রহমান আতিক বলেন, কিশোর সুলেমানের সঙ্গে আনু মিয়ার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জেনেছি। এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বিষয় : মৌলভীবাজার কিশোর সুলেমান