যেভাবে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতেন সাদ্দাম

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

বিকাশের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাদ্দামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা করে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতেন সাদ্দাম (২২)। এই অপকর্ম করে তার মাসে আয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তার রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের হাতে আটকের পর সবকিছু স্বীকার করেছেন তিনি।

সাদ্দাম ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডুমাইন গ্রামের প্রয়াত সাহেদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের বরাট গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বুধবার রাজবাড়ী সদর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম জানিয়েছেন কীভাবে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। তারা কয়েকজন মিলে এই প্রতারণা করতেন। প্রথমে তারা বিকাশের দোকান থেকে ক্যাশ আউটের নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে ফোন দিয়ে গ্রাহককে বলতেন, 'আপনার নম্বরে ভুলে টাকা গেছে। ফেরত না দিলে অভিযোগ দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। অ্যাকাউন্ট চালু করতে বিকাশ হেড অফিস থেকে আপনাকে ফোন দিয়ে একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন পুনরায় আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট পিন নম্বরটি বলবেন। তাহলে অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে যাবে।' তখন বিকাশ গ্রাহকসহ তারা উভয়েই ওই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারেন। সে সুযোগে তারা গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিতেন।

সাদ্দাম আরও জানিয়েছেন, দুই বছর ধরে তারা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তারা মাঠ পর্যায়ের কর্মী। প্রতারণা করে প্রতি মাসে তাদের আয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। যাদের নির্দেশে তারা কাজ করেন, তাদের আয় লাখ লাখ টাকা।

মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম জানান, গত ৩১ আগস্ট ইসমাইল নামের তার এক বন্ধু বিকাশে তিন হাজার ৬০ টাকা পাঠায়। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলে, ভুলে আপনার বিকাশ নম্বরে তিন হাজার টাকা চলে গেছে। তখন তিনি নিজের অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেন কোনো টাকা আসেনি।এরপর ওই প্রতারক বলে, আপনার অ্যাকাউন্ট বিকাশ হেড অফিস থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। পুনরায় চালু করতে অফিস একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন আপনি ১১২২৩ নম্বরটি দিলে ওরা আপনার অ্যাকাউন্ট চালু করে দেবে। কিন্তু এ জন্য আপনাকে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। সে সময় তার অ্যাকাউন্টে দুই হাজার ৭০০ টাকা ছিল। ওই টাকা রক্ষার কথা ভেবে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা ট্রান্সফার করেন। পরে ওই টাকা তিনি আর তুলতে পারেননি। প্রতারক চক্র তুলে নিয়েছে। টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরে মামলা করেন।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, একজন ভুক্তভোগীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার বিকাশ হেল্প সেন্টারে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ওই টাকা চট্টগ্রাম ও ঝিনাইদহের দুটি নম্বরে ক্যাশআউট করা হয়েছে। পরে এসব স্থানে খোঁজ নিয়ে চক্রের এক সদস্যকে শনাক্ত করেন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নারুয়ার জঙ্গল বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্য সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার ১০ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ প্রতারণার নেটওয়ার্ক ভাঙতে এবং প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছে। বুধবার সাদ্দামকে রাজবাড়ী আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।