শেবাচিম হাসপাতালে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে ভুয়া আয়া আটক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভুয়া আয়ার অবহেলায় এক প্রসূতি মায়ের গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই ভুয়া আয়া হালিমা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। 

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন সমকালকে জানান, অফিস সময়ের পর শেবাচিম হাসপাতালে প্রসূতি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভুয়া আয়া ও ওয়ার্ডবয়দের উৎপাত বেড়ে যায়। এদের প্রতিরোধে সব ওয়ার্ড মাস্টারদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালে সন্তানসম্ভবা স্ত্রী বিউটি বেগমকে (২৫) নিয়ে আসেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। সকালেই হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমে স্বাভাবিক ও পরে সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিউটি বেগমের স্বজন রওশন আরা ও শারমিন আক্তার জানান, সকাল ১১টায় চিকিৎসকরা সিজারের জন্য বিউটি বেগমকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। স্বজনরা তখন প্রসূতি ওয়ার্ডে থাকা কথিত আয়া হালিমা বেগম ও পপি আক্তারসহ কয়েকজনকে অনুরোধ করেন বিউটি বেগমকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যেতে। কিন্তু কথিত ওই আয়ারা অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করেন। পরে দেওয়ার কথা বললে বিউটি বেগমকে তখন অপারেশন থিয়েটারে নেয়নি তারা। দুপুর ১২টার দিকে এক চিকিৎসকের হস্তক্ষেপে হালিমা বেগম বিউটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। পরে বিউটি বেগমের সিজার হলেও তার গর্ভের সন্তান মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে বিউটি বেগমের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রসূতি ওয়ার্ডের আয়াদের ওপর চড়াও হলে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুয়া আয়া হালিমা বেগমকে আটক করে। আটক হালিমা বেগম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বরাকোটা গ্রামের সুলতান হাওলাদারের স্ত্রী। 

প্রসূতি ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মাস্টার রাশেদুল ইসলাম জানান, হালিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অফিস সময়ের পর প্রসূতি বিভাগে আয়া পরিচয় দিয়ে কাজ করতেন।বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিউটি বেগমের স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগে মামলা দায়ের হবে। শেবাচিম হাসপাতালে অবৈধ আয়া ও ওয়ার্ডবয় চক্রকে আটক করতে ভুয়া আয়া হালিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলা রেকর্ডের পর আদালতে সোপর্দ করা হবে তাকে।