জিআরপি থানায় ধর্ষণ: প্রতিবেদন দাখিলে সময় চেয়েছে তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯      

খুলনা ব্যুরো

খুলনা জিআরপি থানায় নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৫ দিন সময় চেয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার আদালতে আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তের জন্য গত ৫ আগস্ট রেলওয়ের পাকশী জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামের নির্দেশে কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। ওই কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।

এ ব্যাপারে এএসপি ফিরোজ আহমেদ জানান, ১২ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। কিন্তু তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সে জন্য ১৫ দিন সময় চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, ধর্ষণের শিকার নারীর মেডিকেল রিপোর্ট এখনও আসেনি। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলে তারপর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এএসপি জানান, ভুক্তভোগী নারীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এক আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে বুধবার শুনানি হয়নি। আগামী ১৮ আগস্ট আবেদনের শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৫ আগস্ট রেলওয়ের পুলিশ সুপার সেহেলা পারভীনকে প্রধান করে চার সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। ওই কমিটিও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৫ দিন সময় চেয়ে ১৩ আগস্ট আবেদন করেছে।

গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে এক নারীকে আটক করে খুলনা জিআরপি। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অভিযোগ দিয়ে ওই নারীকে আটক করা হয়। ওই রাতে থানার হাজতে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৪ আগস্ট ওই নারী আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। এ ছাড়া তাকে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া আদালতের নির্দেশে গত ১০ আগস্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এএসপি ফিরোজ আহমেদ ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।