সুন্দরবন ধ্বংসকারী ১৫৪ প্রকল্প বন্ধ করার দাবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী সুন্দরবন সুরক্ষায় কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষাসহ (এসইএ) অন্যান্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের আশপাশে গড়ে ওঠা ১৫৪ শিল্প কারখানা দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

'সদ্যসমাপ্ত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভা, উপকূল ও সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের করণীয়' শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন। বক্তব্য দেন জাতীয় কমিটির সদস্য রুহীন হোসেন প্রিন্স ও শরীফ জামিল। উপস্থিত ছিলেন বাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খান।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। তবে দেশের স্বাথ বিসর্জন দিয়ে নয়। জলবায়ু ও পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। প্যারিস সম্মেলন অনুযায়ী এবং এসডিজি বাস্তবায়নে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যায় না। নিজেদের দেশে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র না করে ভারত ও চীন তাদের স্বার্থের জন্য এ কাজ করছে, যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সুন্দরবন ও উপকূলের চলমান সব প্রকল্প বন্ধের দাবি জানান তিনি।

ডা. আব্দুল মতিন বলেন, ইউনেস্কোর ৪১তম সভায় সুন্দরবনকে নিয়ে নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ ছিল। বাংলাদেশ সুন্দরবন সুরক্ষায় কী করেছে তা ৩০ জুন আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় অবহিত করা। সভায় বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আবার প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উদ্যোগ নেওয়া না হলে আবার সুন্দরবন বিপদাপন্ন ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেতে পারে। এটা হবে দেশের জন্য অপমানজনক।

তিনি বলেন, সরকার ২০১৭ সালে আমাদের কাছে সুন্দরবনের সমীক্ষা প্রতিবেদন চেয়েছিল। জমা দেওয়ার দেড় বছর পরও কোনো আলোচনা হয়নি।

রুহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, রামপাল থেকে সরকার কেন সরে আসছে না তা স্পষ্ট নয়। সরকারকে বলব জনগণের কণ্ঠ শোনেন। সুন্দরবন রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।

শরীফ জামিল বলেন, সুন্দরবন মহাবিপদে পড়তে যাচ্ছে। এখনই সুন্দরবন রক্ষায় নির্মোহভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে ১৫৪টি শিল্প কারখানার অনুমতি দিয়েছে। পাঁচটি সিমেন্ট কারখানা হয়েছে। আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই, উন্নয়নও চাই। তবে তা দেশের ঐতিহ্য ধ্বংস করে নয়। তিনি বলেন, ইউনেস্কো এবারের সভায় বনকে বিপদাপন্ন তালিকাভুক্ত করেনি, তবে ২০১৭ সালের শর্তগুলোকে সঠিকভাবে পালনের জন্য এক বছর সময় দিয়েছে। ইউনেস্কোর পরিদর্শন টিম আসবে এ বছর। সরকারকে জাতিসংঘের উপদেশ সঠিকভাবে ও দ্রুত পালনের দাবি জানাচ্ছি।