হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিগগিরই স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা বা ই-গেট চালু হচ্ছে। স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এটি চালুর জন্য কাজ করছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং ইমিগ্রেশন পুলিশ। ই-গেট চালু হলে যাত্রীরা ইমিগ্রেশন পুলিশের মুখোমুখি হওয়া ছাড়া নিজেরাই ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ই-গেট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বিমানবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হলেও তা চালু করা হয়নি। সম্প্রতি এ বিষয়ে স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকবার তাগিদ দেওয়া হয়।

বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-গেট চালু হচ্ছে। মূলত ইমিগ্রেশন পুলিশ ই-গেট পরিচালনায় কাজ করবে। এতদিন ই-পাসপোর্ট সার্ভার এবং ই-গেটের মধ্যে কোনো সংযুক্তি না থাকায় এই গেট চালু করা যায়নি। তবে বর্তমানে ইমিগ্রেশন পুলিশ এই সংযুক্তি স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি ই-গেটের সঙ্গে একটি ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে। যাত্রী ইমিগ্রেশন করার সময় তাঁর ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তোলা হবে।

জানা গেছে, একজন যাত্রী ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে ই-পাসপোর্টটি রাখলে সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যাবে। নির্দিষ্ট নিয়মে গেটের নিচে দাঁড়ানোর পর ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। এরপর সব ঠিকঠাক থাকলে ১২-১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রী ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো যাত্রী বা ব্যক্তি ভুল করলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করবেন।

প্রাথমিকভাবে ই-পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি কূটনীতিক, অফিসিয়াল ই-পাসপোর্টধারী সরকারি কর্মকর্তা, বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা (সিআইপি), সেরা করদাতা কার্ডপ্রাপ্ত ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি, ই-পাসপোর্টধারী পাইলট ও ক্রুরা ই-গেট ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।