সারাদেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অফিস-আদালত অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালনার নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছে সরকার। 

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,‘অর্ধেক লোক দিয়ে অফিস আদালত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে চলে আসবে। গণপরিবহনে যাতে ভোগান্তি না হয়, সে জন্য অর্ধেক লোক দিয়ে অফিস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রুখতে শুক্রবার সারাদেশে ৫টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ করার পাশাপাশি সব ধরণের জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহারের কঠোরতা আরোপের কথা জানিয়েছে সরকার।

জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয়-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ, অনুষ্ঠানগুলোতে ১০০ জনের বেশি সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেবন, তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সনদ বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে। 

এছাড়াও সরকারি, বেসরকারি অফিস,শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সনদ গ্রহণ করতে হবে।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাইব, তারা যেন আরও নজরদারি বাড়ান। জনগণের দায়িত্ব আরও বেশি। নিজেদের সুরক্ষায় এটি নিজেদেরই পালন করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে খেলাধুলা আছে সেখানে টিকা সনদের পাশাপাশি টেস্টের সনদও লাগবে। এগুলো বইমেলায়ও দেখাতে হবে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে বইমেলা পেছানো হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতই আমরাও চলমান পরিস্থিতির বাইরে নই।’

সরকার টিকার লক্ষ্যমাত্রা ৮০ থেকে ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা বলে এসেছি। তা কিন্তু ৭০ ভাগের মধ্যে। অনেকে বাইরে থাকে। সবমিলিয়ে আমরা ১৫ কোটি ১০ লাখ টিকা দিয়েছি। হাতে ৯ কোটি আছে। আমরা জনসনের তিন লাখ ৩৭ হাজার টিকা পেয়েছি। আরও আসবে।’