ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের সব হল চারটি শর্ত দিয়ে খুলে দেওয়া হয়েছে। একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মঙ্গলবার থেকে কলেজের হল গুলো খুলে দেওয়া হয়। কলেজে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির বিষয় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় একটি অভিযোগও দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের বিবাদে গত শনিবার সন্ধ্যায় আনন্দ মোহন কলেজের হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বিবাদে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনটি ছেলেদের হল ও চারটি মেয়েদের হলে ১ ডিসেম্বর হলে ওঠা শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ নিয়ে হল ত্যাগ করেন। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর গত সোমবার দিনভর কয়েক দফা মিটিং শেষে রাতে আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে মঙ্গলবার থেকে হল খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে জুড়ে দেওয়া হয় চারটি শর্ত।

শর্তগুলো হলো- কেবল মাত্র বৈধ শিক্ষার্থীরাই হোস্টেলে অবস্থান করতে পারবেন; রাত ৮টার পর ছাত্রীনিবাস এবং রাত ১টার পর ছাত্রাবাস সমূহের গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে; হোস্টেল সমূহ কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকবে বিধায় শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড/সিট বরাদ্দের রশিদ সঙ্গে রাখতে হবে; এবং সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। শর্ত মেনেই মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা পূনরায় হলে উঠতে শুরু করেন।

এ সময় কিছু শিক্ষার্থীকে উচ্ছ্বসিত দেখা গেলেও অনেকে ক্ষোভ জানান। জসিম উদ্দিন হলের ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীদের আধিপত্যের বিবাদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। অনির্দিষ্টকালের জন্য হল বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় অনেকে বাড়িতে চলে গেছে। তারা পুনরায় আসতে শুরু করেছে। এতে ভোগান্তি সাধারণদেরই।

গত ৩ ডিসেম্বর রাতে আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ইউনিটটি জেলা ছাত্রলীগের অন্তর্গত ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হবে বলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের অনুসারীরা আন্দোলনে নামেন। শনিবার দিনভর কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং হাতাহাতির ঘটনায় দুই শিক্ষকসহ আহত হয় কয়েকজন। উত্তেজনার মুখে ওইদিন সন্ধ্যার দিকে কলেজের হল বন্ধের নির্দেশনা দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কলেজে ককটেল বিস্ফোরণ ও অপ্রিতিকর পরিস্থিতি নিয়ে গত রোববার কোতোয়ালি থানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমান উল্লাহ বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে চারটি শর্ত দিয়ে ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের চারটি হল খুলে দেওয়া হয়েছে। ছেলে মেয়েরা পরিচয়পত্র ছাড়া হলের ভেতর এবং বেইরে যেতে পারবে না। কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, কলেজ থেকে একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তাতে কোনো আসামির নাম নেই। কোনো মামলা হয়নি। জড়িতদের শনাক্তে তারা চেষ্টা করছেন।