টেকলাইন

টেকলাইন


অ্যাপস্টোর এফ-ড্রয়েড

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০১৯      

মোখলেছুর রহমান

অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্ম সমর্থিত এমন অনেক প্রয়োজনীয় অ্যাপস রয়েছে যেগুলো গুগলের প্লেস্টোরে পাওয়া যায় না। মুক্ত সোর্সের এসব অ্যাপস খুঁজে পেতেও বেগ পেতে হয়। তবে এজন্য রয়েছে বিকল্প অ্যাপ স্টোর যেখানে পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত অ্যাপস। এসব অ্যাপসে চাইলে সোর্স কোড দেখে নেওয়া যায়, পরিবর্তন-পরিবর্ধনও করা যায় ইচ্ছে মতো। অথচ প্লেস্টোরের অধিকাংশ অ্যাপসের সোর্স কোড কিন্তু গোপন থাকে। চাইলে দেখা যায় না। প্লেস্টোরে অনেক অ্যাপ বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় কিংবা যৎসামান্য অর্থ খরচায় নামিয়ে নিতে পারেন অ্যাপস। কিন্তু প্লেস্টোরের অ্যাপসের সোর্সকোডের ঠিকুজি পাওয়া যাবে না কেননা সোর্স ডেভেলপারের নিজস্ব সম্পত্তি। ফলে প্লেস্টোরের অ্যাপসগুলো ওপেন সোর্স নয়। কিন্তু এমন প্রয়োজনীয় ওপেন সোর্স ভিত্তিক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস নিয়ে তৈরি হয়েছে বিকল্প অ্যাপস্টোর 'এফ-ড্রয়েড'। এখানে আছে অসংখ্য প্রয়োজনীয় অ্যাপস। এসব অ্যাপস বাহ্যিকভাবে খুব একটা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। লোগো, ডিজাইন খুব একটা মনকাড়াও নয়। তবে সত্যিই কাজের কাজি। এ স্টোরটিতে প্রতিটি অ্যাপের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট ডেভেলপারের ওয়েবসাইট সংযুক্ত থাকে। এখান থেকে চাইলে সরাসরি অ্যাপের এপিকে ফাইল ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। অ্যাপগুলোর সোর্স দেখতে আগ্রহী হলে ংশ্নিষ্ট অ্যাপের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। তবে খেয়াল রাখা ভালো, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ডিফল্ট আকারে প্লেস্টোরের বাইরের অ্যাপ ডাউনলোড অপশনটি বন্ধ রাখা হয়। এজন্য এফ-ড্রয়েড অ্যাপস ডাউনলোডে প্রথমেই হ্যান্ডসেটের সেটিংসে গিয়ে টহশহড়হি ঝড়ঁৎপব চালু করে দিতে হবে। এরপর ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা এফ-ড্রয়েডের এপিকে ফাইলটি স্মার্টফোনে ইনস্টল করে নেওয়া যাবে।

প্লেস্টোরে ম্যালওয়্যারযুক্ত অনেক অ্যাপ রয়েছে। কোম্পানিটি এরই মধ্যে স্বীকার করেছে, তাদের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে গত কয়েক বছরে ২৫ মিলিয়ন ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়েছে। এ ছাড়াও গত মার্চ মাসে আরও ২০০ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ম্যালওয়্যার দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে এবং জুলাইয়ে তথ্য সংগ্রহের অনুমতি না দেওয়া এবং ক্রোম এক্সটেনশন সুরক্ষা ব্যবহার করা সত্ত্বেও সহস্রাধিক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও যদিও গুগল দাবি করেছিল, তারা তাদের প্লেস্টোর থেকে এ ধরনের ম্যালওয়্যার অ্যাপগুলো সরিয়ে ফেলেছিল। তবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। আর এ ক্ষেত্রে এফ-ড্রয়েড কিন্তু নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।

ইনস্টল করবেন যেভাবে

আপনি যদি এফ-ড্রয়েড ডাউনলোড করতে চান, তবে প্লেস্টোরে এটি পাবেন না। আপনাকে এফ ড্রয়েডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি ডাউনলোড করতে হবে। আপনার ফোন থেকে সাইটে ঢুকে ইনস্টলেশন নিশ্চিত করুন। যারা সঠিক গোপনীয়তাকেন্দ্রিক অ্যাপ সন্ধান করতে আগ্রহী তারা এফ-ড্রয়েড অনুমোদিত গার্ডিয়ান প্রকল্পটি দেখতে পারেন। তাদের সহজেই ব্যবহারযোগ্য সুরক্ষা অ্যাপ স্যুটটি আপনার ডেটাসেফ মোবাইল ব্যবহারের রুটিন তৈরি শুরু করার জন্য উপযুক্ত জায়গা হতে পারে। আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েডের কোনো পুরনো সংস্করণ ব্যবহার করেন, তবে আপনাকে সিস্টেম সেটিংসের মাধ্যমে অজানা উৎস থেকে সফটওয়্যারটিকে অনুমতি দিতে হবে। তবে আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড ৮ ওরিও বা তার পরের কোনো সংস্করণ ব্যবহার করেন, তবে এই সফটওয়্যারটিতে আপনি একটি কার্যকর নতুন সেটিংস পাবেন। আর আপনি যদি এফ ড্রয়েড এবং গুগল প্লেস্টোর উভয়ই একত্রে ব্যবহার করতে চান, তবে সবার আগে গুগলপ্লে সুরক্ষা ফিচারটি চালু করে নিন।

এফ-ড্রয়েড ব্যবহারের সুবিধা

এটি একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীদের সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। প্রতিটি অ্যাপের জন্য একটি কঠোর সুরক্ষা অডিটিং প্রক্রিয়া চালানো হয়, যা নিশ্চিত করে যে এই অ্যাপগুলো আপনাকে ট্র্যাক করবে না। এর অ্যাপগুলোতে কোনো গোপন ব্যয় নেই এবং প্রতিটি অ্যাপের জন্য জটিল কোনো কাস্টমাইজেশন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় না।

এফ-ড্রয়েড ব্যবহারের অসুবিধা

এতে কোনো দৃশ্যমান রেটিং সিস্টেম নেই। ফলে আপনাকে ভালো অ্যাপগুলো খুঁজে পেতে বেগ পেতে হতে পারে। এই পেল্গস্টোরে মাত্র ২২০০টি অ্যাপ রয়েছে, যা গুগল পেল্গস্টোরে থাকা আড়াই মিলিয়নেরও বেশি অ্যাপের তুলনায় খুবই কম। তবে লক্ষ্যণীয় হলো এফ-ড্রয়েড, একটি পেল্গস্টোর যা আপনাকে বিজ্ঞাপন, লুকানো ব্যয় এবং কালো তালিকাভুক্তির ইতিহাসসহ বেশকিছু ফিল্টার সহকারে অ্যাপ অনুসন্ধান করার অনুমতি দেয়। বেশিরভাগ এফ ড্রয়েড অ্যাপ ম্যানুয়ালি আপডেট করতে হয়। অন্যদিকে, গুগল পেল্গস্টোরের অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে থাকে।