টেকলাইন

টেকলাইন


ফেসঅ্যাপে নতুন মুখ

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৯      
চেহারা বদলের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় অ্যাপ ফেসঅ্যাপের দখলে এখন বিশ্বের ১৫ কোটিরও বেশি মানুষের ছবি। আর এসব ছবি আমরা নিজেরাই তুলে দিয়েছি তাদের হাতে। এমনকি এসব ছবি যে কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমতিও দিয়ে রেখেছি। অথচ জানিও না সেই ছবি দিয়ে আসলে কী করা হবে। ফেসঅ্যাপের কল্যাণে ব্যবহারকারীরা তাদের চেহারার অভিব্যক্তি, ধরন ও বয়স বদলে ফেলতে পারে। এমনকি ছেলে থেকে মেয়ে বা মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাওয়াটাও কোনো ব্যাপার না এই অ্যাপ দিয়ে। সম্প্রতি অ্যাপটির নতুন ওল্ড মাস্ক সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে গেছে। ছবিতে এমনই অদ্ভুত সব পরিবর্তন আনার ক্ষমতা ফেসঅ্যাপ দিয়েছে। কিন্তু তার বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা ফেসঅ্যাপকে তার চেয়েও বড় ক্ষমতা দিয়ে ফেলেছেন। আর তা হলো যে কোনো উদ্দেশ্যে, যতদিন খুশি নিজেদের ছবি ও নাম ব্যবহারের ক্ষমতা।

গুগল পেল্গ স্টোর থেকে এ পর্যন্ত ১০ কোটিরও বেশি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী ফেসঅ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। এখন তো অ্যাপল অ্যাপ স্টোরেও ১২১টি দেশের মধ্যে এটি শীর্ষ র‌্যাঙ্ক পাওয়া অ্যাপ বলে জানিয়েছে অ্যাপবিষয়ক জরিপ সংস্থা অ্যাপ অ্যানি। ২০১৭ সাল থেকেই বহুল ব্যবহূত ও ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও বুড়ো হওয়ার নতুন ফিল্টারটি যোগ করার পর থেকে ফেসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা আরেক দফা বেড়ে গেছে ভার্চুয়াল জগতে। আর তখন থেকেই কেউ কেউ এর 'টার্মস অব সার্ভিস' বা 'সেবাদানের শর্তাবলি' নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের নিয়মবহির্ভূতভাবে উপাত্ত সংগ্রহ করছে ফেসঅ্যাপ।

ফেসঅ্যাপের টার্মস অব সার্ভিস অনুসারে, অ্যাপ দিয়ে তোলা বা এডিট করা নিজের ছবির মালিকানা ব্যবহারকারীরই থাকবে। কিন্তু সেই ছবিটি দিয়ে যা খুশি করার, যেভাবে খুশি সেভাবে ব্যবহার করার বাতিলের অযোগ্য লাইসেন্স থাকবে ফেসঅ্যাপ কোম্পানির কাছে। ছবিটি চাইলে কোম্পানি যেখানে সেখানে প্রকাশ করতে পারবে, সেটিতে পরিবর্তন আনতে পারবে। এমনকি ব্যবহারকারীর ইউজার নেমসহ ছবি অন্যপক্ষের কাছে দিয়ে দিতে পারবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ব্যবহারকারী শেয়ার করলে সেই অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক, এমনকি প্রোফাইল পিকচারও যে কোনো ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করতে পারবে ফেসঅ্যাপ।

আর সে জন্য যার ছবি তাকে একটি পয়সাও দিতে হবে না তাদের। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টিকে খুব একটা বিপজ্জনক মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তা ছাড়া ফেসঅ্যাপ এক বিবৃতিতে বলেছে, আপলোড করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের সার্ভার থেকে ছবি ডিলিট করে দেয় তারা। আর ব্যবহারকারীরা যে সব ছবি এডিটিং করার জন্য নির্ধারণ করেন শুধু সেসব ছবিই আপলোড করে থাকে অ্যাপটি। অন্য কোনো ছবি নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে যে ছবিটি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রি করে দেওয়া হবে না, সেটা কে বলতে পারে? ফেসঅ্যাপের নির্মাতা রুশ কোম্পানি ওয়্যারলেস ল্যাব হয়তো কোনো বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি ব্যবহার করতে পারে। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রিও করতে পারে। যা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ফোনএরিনার লেখক পিটার কস্তাদিনোভের মতে, একজন ব্যবহারকারীই সিদ্ধান্ত নেবেন ভবিষ্যৎ ব্যবহার বা অপব্যবহার দুশ্চিন্তার কি-না। দুশ্চিন্তার হলে ফেসঅ্যাপকে ছবি দেওয়া যাবে না। মস্কোর নিকটবর্তী প্রযুক্তিকেন্দ্র স্কোলকোভোভিত্তিক উইয়ারলেস ল্যাব এটির উদ্ভাবক। স্কোলকোভোকে বলা হয় রাশিয়ার সিলিকন ভ্যালি। ফেসঅ্যাপের প্রধান নির্বাহী ইয়ারোস্লাভ গনচারোভ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ব্যবহারকারীদের তথ্যে রুশ কর্তৃপক্ষের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। একটি ছবি আপলোড হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটি মুছে যায়। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহারকারীদের ছবি কাজে লাগানো হচ্ছে না এখানে। পোল্যান্ডের ডিজিটাল কার্যক্রম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ব্যবহারকারীদের বুড়ো হওয়ার ছবির বন্যা নেমেছে সামাজিক মাধ্যমে। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় ঝুঁকির কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন সিনেটে সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বুধবার এই অ্যাপ নিয়ে সতর্কবাণী দেন। এতে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঝুঁকি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও বাণিজ্য কমিশনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।