প্রিয় ফোনের সুরক্ষা

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০১৯      
ছবি ও ভিডিও, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভয়েস ও ভিডিও কলিং, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন, অনলাইন কেনাকাটা, উবার-পাঠাওয়ের মতো রাইড- শেয়ারিং- কী হচ্ছে না স্মার্টফোনে! প্রাত্যহিক জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ডিভাইস হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। স্মার্টফোনের সুরক্ষা নিয়ে লিখেছেন তাছলিমা মেহযাবিন

এখন শুধু কথা বলার জন্য নয়; নানা কাজের কাজি হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। স্মার্টফোন এখন তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি সব বয়েসের মানুষের কাছেই প্রিয় সহচর। দিনযাপনের অধিকাংশ কার্যক্রম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন কেন্দ্রিক। স্মার্টফোন যখন রকমারি সেবার আঁধার হয়ে উঠেছে, তখন ফোনটিকে সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় ফোনটি হারিয়ে গেলে কিংবা বেহাত হলে ব্যক্তিগত এবং প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই বেহাত হয়ে যেতে পারে। এতে আর্থিকসহ ব্যক্তিগত নানা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন ব্যবহারকারী। প্রিয় ফোনটিকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহারকারীকে সচেতন হতে হবে।

লকস্ট্ক্রিনে প্রাথমিক সুরক্ষা

স্মার্টফোনে সবসময় লকস্ট্ক্রিন ব্যবহার করুন। এতে করে অন্য কেউ হুট করে আপনার ফোনে ঢুকতে পারবেন না। অন্য কেউ আপনার ফোনের ব্যক্তিগত ফাইল ও ডকুমেন্ট দেখুক নিশ্চয়ই সেটা চাইবেন না। অনেকে স্মার্টফোনে ফেসবুক সব সময় চালু রাখে। স্ট্ক্রিনলক না থাকলে হঠাৎ আপনার হ্যান্ডসেট হাতে পেয়ে ফেসবুকে ঢুকে পড়তে পারে। দেখে নিতে পারে ফটো গ্যালারি বা স্টোরেজ। আর অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে সামাজিক যোগাযোগ বা ফটো গ্যালারির অপব্যবহার হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই ফোনের লকস্ট্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লকস্ট্ক্রিন সুরিক্ষত রাখুন। সহজে খোলা যায় এমন পাসওয়ার্ড কিংবা প্যাটার্ন 'লক' ব্যবহার না করা ভালো।

অ্যাপেও পাসওয়ার্ডে

স্মার্টফোন কতটা স্মার্ট সেটি বোঝা যায় আপনার ফোনে কতগুলো অ্যাপস ইনস্টল আছে। ফেসবুক কিংবা মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ তো থাকেই, সঙ্গে থাকছে বিকাশ, রকেট কিংবা আইপের মতো আর্থিক লেনদেনের অ্যাপস। এসব অ্যাপসকেও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখুন। এজন্য নির্ভরযোগ্য কিছু অ্যাপসও আপনি প্লেস্টোর কিংবা অ্যাপ স্টোরে পাবেন। নির্ভরযোগ্য অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপস লক করে রাখা যায়।

দেখেশুনে ডাউনলোড

স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজকালে নানা অ্যাপস, ফাইল কিংবা ডকুমেন্ট ডাউনলোড করতে ইচ্ছে করে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় যেমন আছে তেমনি বিনোদন কিংবা কৌতূহলেও অনেকে স্মার্টফোনে ডাউনলোড করেন। বিশেষ করে এসব ক্ষেত্রে অ্যাপস ডাউনলোডের বেলায় সতর্ক থাকা খুব জরুরি। কিছু অ্যাপস আছে যা ডাউনলোড করলে আপনার ফোনের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। আবার কিছু অ্যাপস আপনার ফোনের ডাটা, কন্টাক্টস, স্টোরেজ এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য প্রবেশাধিকার নেয়। অ্যাপস ডাউনলোডের সময় খেয়াল রাখুন। নির্ভরযোগ্য নয় এমন অ্যাপস নামানো থেকে বিরত থাকুন। গুগল কিংবা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করুন। তবে নির্ভরযোগ্য এ দুটি স্টোরেও ভুয়া অ্যাপস আছে। ফলে অ্যাপস নামানোর আগে সংশ্নিষ্ট অ্যাপসের প্রাইভেসি পলিসি ভালোভাবে পড়ূন। অ্যাপস আপনার ডিভাইসের কোন কোন অংশের নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রবেশাধিকার নেবে সেটি পারমিশন অপশনে পাবেন। এখানে মনোযোগ দিন। কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করে চালুর আগে অ্যাপটি আপনার ফোনে কোন কোন চাইছে তা দেখতে পাবেন। এরপর অনুমতি দেবেন কিনা ভেবে দেখুন!

ফোন চুরি ঠেকাবে অ্যাপস

প্রিয় স্মার্টফোনটি হারিয়ে গেলে কিংবা চুরি হলে অনেকেই ভীষণ কষ্ট পান। এক্ষেত্রে হ্যান্ডসেটে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার চালু থাকলে দূর থেকে হারানো ফোনটির সব ডাটা মুছে ফেলা যায়, চাইলে ফোনটি লক করেও রাখা যায়। সাইলেন্ট কিংবা ভাইব্রেট মোডে থাকলেও হারানো ডিভাইসটিতে পাঁচ মিনিটের জন্য ফুল ভলিউমে রিং হবে। ইচ্ছে মতো একটা পাসওয়ার্ড দিয়ে ফোনটিকে লক করে রাখা যাবে। চাইলে ফ্যাক্টর রিসেটও করা যাবে। প্রথমবারের মতো চালু করতে চাইলে সেবাটি ডিভাইস অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমতি চাইবে। সেবাটি চালু করতে হ্যান্ডসেটের এড়ড়মষব ঝবঃঃরহমং অপশন থেকে

অহফৎড়রফ উবারপব গধহধমবৎ নির্বাচন করতে হবে। এখান থেকে খড়পধঃব :যরং ফবারপব ৎবসড়ঃবষু এবং অষষড়ি ৎবসড়ঃব ষড়পশ ধহফ ফধঃধ ভধপঃড়ৎু ৎবংবঃ. অপশন নির্বাচন করুন। এবার হ্যান্ডসেট হারালে বা চুরি হলে অনায়াসে ডিভাইস ম্যানেজারের সাহায্যে ডিভাইসের সব ডাটা মুছে দিতে পারবেন কিংবা ডিভাইসটি লকও করে দিতে পারবেন। এছাড়া প্লেস্টোর থেকে এড়ড়মষব ঝবঃঃরহমং>অহফৎড়রফ উবারপব গধহধমবৎ নির্বাচনের মাধ্যমে ডিভাইস ম্যানেজার চালু করা যায়। স্মার্টফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর বন্ধ থাকলে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার কাজ করবে না। তবে যখনই ফোনটি চালু হবে তখনই সেবাটি কাজ করবে।

গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস কিংবা সারবেরাস (পবৎনবৎঁং) অ্যাপস হারানো ফোন খুঁজে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে, মেসেজের মাধ্যমে কিংবা স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্মার্টফোন চুরি থেকে সুরক্ষায় এ অ্যাপ কাজ করে থাকে। সারবেরাস অ্যাপ চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়া স্মার্টফোনের অবস্থান শনাক্ত করা, লক করা, অ্যালার্ম বাজানো, কলের ডিটেইলস, এমনকি ডিভাইসের স্টোরেজে থাকা সব তথ্য দূর থেকেই মুছে দিতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফোনটি চুরি হওয়ার পর যে ব্যবহার করছে তার ছবি তুলে আসল ব্যবহারকারীর কাছে পাঠিয়ে দিতে পারে অ্যাপটি! অ্যাপটি গুগল প্লেস্টোর থেকে নামানো যাবে। চুরি ঠেকাতে ব্যবহার করতে পারেন এন্টি থেফট অ্যালাম অ্যাপ। এ অ্যাপটি ব্যবহার করলে হঠাৎ ফোনটি পড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেছে উঠবে। তেমনি চার্জিংয়ে ধরালে অন্য কেউ ফোনটি খুলতে গেলেও অ্যালার্ম বাজাবে অ্যাপটি। ফলে অ্যাপটি চুরি রোধে তাৎক্ষণিক বেশ কার্যকর। তবে চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়ার পর অ্যাপটি আর কোনো কাজে লাগে না।

গুগলে দ্বিস্তর নিরাপত্তা

সাধারণত এখন অধিকাংশ ব্যবহারকারী গুগলের ই-মেইল সেবা জিমেইল ব্যবহার করে থাকে। জিমেইলসহ গুগল সংশ্নিষ্ট সেবাগুলোকে নিরাপদ রাখতে দ্বিস্তর বিশিষ্ট ভিরিফিকেশন চালু করুন। এতে করে অন্য কেউ আপনার জিমেইলের পাসওয়ার্ড জানলেও ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) না পেলে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। কেউ আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে কিংবা হ্যাক করলে আপনার ফোনে বার্তা আসবে।

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে সতর্কতা

শপিংমলে, রেলস্টেশনে কিংবা দেশের বাইরে গেলে আমরা প্রায়ই পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করি। পাবলিক ওয়াইফাই শতভাগ নিরাপদ এটা জোর দিয়ে বলা যাবে না। ফলে পাবলিক ওয়াইফাই প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও সতর্ক থাকুন। ব্যবহারের পর ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।

ব্লটুথে সাবধানতা

ওয়াইফাইয়ের মতোই ব্লুটুথের মাধ্যমেও আপনার ডিভাইসের ডাটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্যের কাছে চলে যেতে পারে। এজন্য প্রয়োজন শেষ হলে ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন। মনে রাখা দরকার, হ্যাকাররা ব্লুটুথের মাধ্যমেও আপনার ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

অন্যান্য