সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পিসিআর ল্যাবে কাজ করছে সুহৃদ

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২০

রকিব উদ্দীন

করোনার থাবায় পুরো বিশ্ব হাজার হাজার অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর সাক্ষী হচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও রয়েছে চরম ঝুঁঁকিতে। ডাক্তাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সুহৃদরাও পিছিয়ে নেই। তাই তো করোনাকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা নিজের জীবন বাজি রেখে করোনাযোদ্ধা হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। শত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাবে আপ্রাণ কাজ করে যাচ্ছে তারা।

কভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাবে কাজ করার অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সুহৃদ সমাবেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ আহমেদ ইজাজ বলেন, 'প্রথম যখন বাসায় ল্যাবে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করি তখন কেউ সায় দেয়নি। অল্প কিছুদিন আগে আমার আম্মুর অপারেশন হয়েছে, তখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। এ অবস্থায় বাসার সবাইকে ছেড়ে এত বড় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করব সেটা স্বাভাবিকভাবে কেউ মানতে পারছিলেন না। পরে অবশ্য তারা রাজি হয়েছেন দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি বলে। এখনও কথা হলে বলেন, সাবধানে থেকো, নিজে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেশের সেবা কে করবে? দিনশেষে নির্লিপ্তভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারার তৃপ্তি নিয়ে ঘুমাতে পারি। এটাই সুহৃদদের বড় পাওয়া।'

সুহৃদ আবদুর রহিম অপু বলেন, 'দেশের এমন ক্রান্ত্‌িলগ্নে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে পেরে আমি বেশ উচ্ছ্বসিত। বায়োটেকনোলজির ছাত্র হিসেবে বলতে চাই, আমার এতদিনের অর্জিত জ্ঞান যা দেশের মানুষের সাহায্য নিয়েই অর্জন করতে পেরেছি তা মানবকল্যাণে ব্যবহারের এই সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।'

চবি সুহৃদ সভাপতি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা বলেন, করোনা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকতাম তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ হতো সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। হয়তো বাংলাদেশও পরিণত হতো ইতালির মতো কোনো এক মৃত্যুপুরীতে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দেশের এমন পরিস্থিতিতে কোনোমতেই বসে থাকতে পারি না। তাই শত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বিদেশের উচ্চতর ডিগ্রির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাবে কাজ করার তাগিদ অনুভব করেছি। আমার পরিবার আমাকে শুরু থেকেই সম্পূর্ণ সমর্থন করে গেছে। করোনা ল্যাবে কাজ করার পর থেকে বাসায় যাওয়া হয় না সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে। মায়ের মুখ দেখতে ইচ্ছে হলে যখন যাই দরজার বাইরে থেকে কিছুক্ষণ দেখে চলে আসি। পরিবারের সবাইকে ছুঁয়ে দেখা হয় না বলে যথেষ্ট আফসোস লাগে। কিন্তু তারপরও আমার মা সব সময়ই বলেন, 'কষ্ট করে হলেও এগিয়ে যাও। তুমি ভালো কাজ করছো।' তাদের এই সমর্থনই আমার এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা।

তিনি আরও বলেন, সুহৃদরা যে কোনো সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সবার আগে। সেই ধারাবাহিকতায় চবি সুহৃদ সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ আরও ছয়জন সুহৃদ এই সংকটে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

চবি সুহৃদ উপদেষ্টা এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাব সারাদেশের কাছে একটা উদাহরণের নাম।

আমরাই একমাত্র ল্যাব বাংলাদেশের মধ্যে যাদের কোনো ব্যাকলক নেই। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা টেস্টের ফল প্রকাশ করি। আর ইমার্জেন্সি টেস্টের জন্য আমাদের করোনা যোদ্ধারা সবসময়ই প্রস্তুত সবসময়। সুহৃদদের কথা আর নতুন করে কী বলব? ওরাই তো চবির কভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাবের প্রাণ। এই প্রতিশ্রুতিশীলরা না থাকলে আমাদের পক্ষে এরকম রোল মডেল ল্যাব তৈরি করা অসম্ভব ছিল। দেশের এমন ক্রন্তিলগ্নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাকালীন সেবা দিতে তো বেশিরভাগ মানুষই চায় না, অভিভাবকরাও চান না তাদের সন্তান ঝুঁকিতে থাকুক। এমন পরিস্থিতিতে সুহৃদরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছে। তাদের বাবা-মা কখনও আমাদের ফোন দিয়ে কোনো অভিযোগ বা অনুযোগও করেননি। সুহৃদদের এমন কাজের জন্য তাদের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের অভিভাবকদের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা। া