সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


উড়ে যাবে করোনার কালো মেঘ...

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০      

এস এম আল-আমিন

লকডাউনের এই পৃথিবীতে আমরা কেউই ভালো নেই। আগামী দিনের আর্থসামাজিক মন্দাভাবের ভয়াবহতার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। তবুও একটা আশার আলো বুকে রেখে নতুন ভোরকে স্বাগত জানাতে চাই আগামীর পৃথিবীতে

এখন দিনের শুরু হয় কোনো মৃত্যু সংবাদ শোনার মধ্য দিয়ে। চারদিকে শুধু দুঃসংবাদ। ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসে অ্যাম্বুলেন্সের হুইসেল। এভাবে প্রতিটি দিন গড়ায়, রাতের অন্ধকার নামে। আসে আরেকটি নতুন ভোর। করোনা মহামারির এই সময় প্রত্যেকের দিনলিপি প্রায় এমনই। একবিংশ শতাব্দীর নতুন প্রজন্মের মহামারির গল্প শুধু ছবি, গল্প, কাব্য ও রূপকথায় জেনেছি। আমরা নতুন প্রজন্ম প্রথম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখিনি। দেখিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ। শুধু পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শানিত চেতনার গল্প শুনেই শিহরিত হয়েছি এক গৌরবমাখা অনুভবে। যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দাভাবে নতুন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেঁচে থাকার যুদ্ধের গল্পের আঁচও কিছুটা পেয়েছি বিভিন্ন শিল্প, সাহিত্যের চিত্রে। কিন্তু এবারই প্রথম আমাদের প্রজন্ম এই ভয়াবহ মহামারির সম্মুখীন। এ যেন এক অন্য যুদ্ধ। এ যুদ্ধে পুরো বিশ্ব এখন ভীত। এ যুদ্ধ এক অদ্ভুত অদেখা রহস্যময় শত্রুর বিপক্ষে। ভাবতে অবাক লাগে এই ক্ষুদ্র অদেখা জীবাণুটির কী চরম শক্তি যে, এক নিমিষে কাবু করে ফেলেছে মানবদেহ। একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে উৎপত্তি হয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে গেল নিমিষেই। শুধু মানুষকে আক্রান্তই করছে না, মানুষের মধ্যে তৈরি করে চলছে চরম ভীতি। মানুষের জীবননাশের কারণও হয়েছে এই জীবাণু। মৃত্যু আতঙ্কের কাছে দেশ, জাত, শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ, অর্থবিত্ত সব যে ঠুনকো- করোনা দেখিয়ে দিয়েছে। মানুষ এখন আপন জীবন ঘরবন্দি। যতই দিন বাড়ছে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঘরের বাইরে প্রত্যেকেরই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তবু অনেক মহানুভব মানুষ ও প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত ও ঘরে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অনেকের মানবতার পরশে পাশে থাকা অসহায় হতদরিদ্র দুস্থ মানুষগুলো একটু হলেও সাহস পাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, এতসব সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে এবং তা মেনে প্রত্যেক মানুষ এখন গৃহবন্দি হয়ে অবরুদ্ধ সময় পার করছে শুধু অদৃশ্য এই ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিহতের চেষ্টায়। ইতিবাচকভাবে যদি দেখি মানুষ যথেষ্ট সচেতনতার সঙ্গে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর এই যুদ্ধে নিরাপদ দূরত্ব রেখেও ঠিকই তাদের নিজ নিজ পেশায় কাজ করে চলেছে।

পৃথিবীকে সুস্থ করতে এখন এই মুহূর্তের সামগ্রিকভাবে সমবেত চেষ্টার বিকল্প নেই। আমরা কেউই একা বাঁচতে পারি না, পারবও না। আমি সুস্থ থাকলেই আমার চারপাশের পরিবেশ সুস্থ-সুন্দর থাকবে। এই যে মানবতার মায়ায় ভালোবাসার জাল ছড়াতে শুরু করেছে, তাতে মনে হয় না করোনা আর বেশিদিন বিরক্ত করবে পৃথিবীকে। হয়তো লকডাউনের এই পৃথিবীতে আমরা কেউই ভালো নেই। আগামী দিনের আর্থসামাজিক মন্দাভাবের ভয়াবহতার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। তবুও একটা আশার আলো বুকে রেখে নতুন ভোরকে স্বাগত জানাতে চাই আগামীর পৃথিবীতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা আনা, আর স্বেচ্ছা বন্দিত্বে সারা পৃথিবীর আকাশে করোনার কালো মেঘের ছায়া কেটে যাবে। করোনার এই আঁধার কেটে সুদিন আসবেই। প্রকৃতি আবার হাসবে। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেব খোলা আকাশের নিচে। গোটা পৃথিবীই এখন নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশায়। আমরা বিশ্বাস করি, 'ভোর হয়নি, আজ হলো না, কাল হবে কিনা তাও জানা নেই, পরশু ভোর ঠিকই আসবে। অপেক্ষা কেবল সময়ের।

সুহৃদ ঢাকা